ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অপরাধে পুলিশের দায়েরকৃত তথ্যপ্রযুক্তি মামলায় ৬ মাস ধরে কারাগারে আটক শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে ‘হিউম্যান ফাস্ট মুভমেন্ট’ নামক একটি সংগঠন এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববনন্ধনে শহরের বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানবন্ধনে বক্তব্য দেন প্রভাষক এনামুল কবির, গণমাধ্যমকর্মী শামস শামীম, এ কে কুদরত পাশা, সাইদুর রহমান আসাদ মনি, শিক্ষক মো. আমিনুর রশীদ, উদীচীর শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শ্যামল দেব, উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক মিলন, কে.বি প্রদীপ দাস, মইন উদ্দিন, পংকজ দাশ, স্বপন সূত্রধর, সুরঞ্জিত মজুমদার, জুয়েল দেবনাথ, সুদীপ কুমার দাস, শিক্ষিকা সোনালী সরকার শিল্পী, শুক্লা দেবী, শিক্ষক মিন্টু সূত্রধর, ইয়ুথ লিডার দুর্জয় সূত্রধর, ইয়ুথ লিডার নকুল সূত্রধর, সুনামগঞ্জস্থ শাল্লা সমিতির সভাপতি তাপস তালুকদার, রাজেন চক্রবর্তী, লক্ষী দাশ, ধনঞ্জয় দেবনাথ, দেবাশীষ দাশ, বিজন দেবনাথ প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে ঝুমন দাশের মুক্তির দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশের ফেসবুক আইডি থেকে হেফাজত ইসলামের সাবেক নেতা মাও. মামুনুল হককে সমালোচনা করে কথিত ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় হেফাজত ইসলামের সমর্থকরা ১৭ মার্চ হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করে। গ্রামের ৫ টি মন্দিরও ভাংচুর করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি মামলায় ১৬ মার্চ ঝুমন দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়। মামলাগুলো তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনটি মামলায় গ্রেফতার ও আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হওয়াসহ ১১৩ জন আইনের আওতায় এসেছেন। হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের মামলার ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াসহ অধিকাংশ আসামী জামিন পেয়েছেন। কিন্তু এখনও জামিন পাননি মাও. মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দানকারী ঝুমন দাশ। ঝুমন দাশ ৬ মাস ধরে কারাগারে আছেন। এতে অর্থকষ্টসহ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঝুমন দাশের পরিবার।