ঝুমন দাসের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি

শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাসের নি:শর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়,
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা গত ১৭ মার্চ হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করে নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দিরও ভাংচুর করে তারা। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় ওই দিন সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই তাণ্ডব চালানো হয়। এখানেই শেষ নয় তথাকথিত ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া নিরপরাধ ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে পুলিশ ধর্মীয় অবমাননা, ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। কার্যত ঝুমন দাশ কোন অপরাধ না করেই এখনো জেল-হাজতেই রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে কার্যতঃ তার কোন আইনগত ভিত্তি নেই।
এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাড. সুলতানা কামাল, সাবেক বিচারপতি (আপীল বিভাগ) মো. নিজামুল হক, নারী নেত্রী ও নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাড. রাণা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এড. জেড আই খান পান্না, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. তবারক হোসেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, রিব’র নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, বেলা’র প্রধান নির্বাহী অ্যাড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ব্লাস্ট’র অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সময়ে ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়েছে এই অজুহাতে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘরে হামলা করা, আগুন লাগানো একটি নির্যাতনের কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাবনার সাঁথিয়া (২০১৩ সাল), কক্সবাজারের রামু (২০১২ সাল), ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগর (২০১৬ সাল) সব ক্ষেত্রে একই ধরণের গল্প তৈরীর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। রংপুরের গংগাচড়া এবং ভোলার মনপুরার ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়। এই সবক্ষেত্রেই কথিত ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দাতাকে গ্রেফতার করা হয়। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যার নামে ফেসবুকে কথিত স্ট্যাটাস দেয়ার কথা বলা হয় পুলিশ তাকেই গ্রেফতার করে এবং বেশিরভাগ ঘটনার তদন্ত শেষ হয় না ও প্রকৃত অপরাধীরা কখনোই আইনের আওতায় আসে না। এ ধরনের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগ, তারা নিরাপরাধী হয়েও লম্বা সময় জেল খেটেছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। নাসিরনগরের নিরক্ষর রসরাজ এবং রামু’র উত্তম বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। রংপুরের টিটু রায়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সর্বশেষ শাল্লায় ঝুমন দাসের সাথেও ঐ একই ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং শাল্লায় সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, তাদের হয়রানির ঘটনায় ফেইসবুকে একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ সরূপ তথাকথিত পোস্ট দেয়া নিরাপরাধ ঝুমন দাসের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে হিন্দু পল্লী আক্রমন ও লুটপাটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি এবং মাঠ প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে সকল কর্মকর্তা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা রুখতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানাচ্ছি।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি