টানা বৃষ্টিতে ডুবন্ত সড়কে পানি, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

স্টাফ রিপোর্টার
পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভারত সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার নদ নদীর পানি বেড়েছে। এতে করে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের উপজেলার আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বপাশের সংযোগ সড়কের দেড়শ ফুট এবং বিশম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা অংশের তিনশত ফুট স্থানের ওপর দিয়ে চার ফুট উচ্চতায় ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে তাহিরপুর উপজেলার সাথে জেলা শহর সুনামগঞ্জের সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। সড়কটির এই দুইটি অংশ ডুবন্ত সড়ক হিসাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে ঢলের অতিরিক্ত পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ কারণেই প্রতি বছর একাধিকবার সড়কের ওপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হয় । বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তাহিরপুরের সাথে জেলা শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কটি উপজেলা সদর থেকে পূর্বদিকে জেলা শহরের সাথে মিলিত হয়েছে। সড়কটির সমান্তরালে ভারতে মেঘালয় পাহাড়ের অবস্থান। এ সড়কটি থেকে মেঘালয় পাহাড়ের দুরত্ব ৭ কিলোমিটার, কোথায়ও আরো কম। টানা বৃষ্টি হলেই মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢল নামে। ঢলের পানির চাপ পড়ে এ সড়কে। এতে সড়কটির এই দুইটি অংশে প্রতি বছরই ভাঙনের সৃষ্টি হতো। তাই তাহিরপুর-সুনামগঞ্জের সড়কের আনোযারপুর সেতুর পূর্বদিকে সংযোগ সড়ক ও শক্তিয়ারখলার অংশটুকু ডুবন্ত সড়কের নকশা করে নির্মাণ করা হয়েছে।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী সমীরণ কান্তি রায় লিটন বলেন, সড়কটির দুইটি অংশ ডুবন্ত সড়ক হিসাবে নির্মাণের কারণেই এ সড়কটি টিকে আছে। এভাবে সড়ক নির্মাণ এখানকার পরিবেশের সাথে সঠিক হয়েছে বলে মনে করি। তবে টানা ভারী বৃষ্টি হলেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন যাতায়াতকারীদের সাথে ব্যবসায়ীদেরও দুর্ভোগ বাড়ে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কের এই দুইটি স্থান ডুবন্ত সড়কের নকশায় নির্মিত হয়েছে। পানির অধিক চাপ পড়লে সড়কের এই দুইটি অংশের ওপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হয়। তবে বৃষ্টি কমলে পানি সরে যায়।