টিকাকেন্দ্র বাড়ানোর দাবি জনপ্রতিনিধিদের

বিশেষ প্রতিনিধি
মধ্যনগরের কামাউড়া গ্রামের আশরাফ মিয়া বললেন, ‘আমরার গ্রাম থাকি একজন মাইনসেও এখনো টিকা দিছে না, গ্রাম থাকি ট্রলারে এক ঘণ্টা লাগে মধ্যনগর পৌঁছাইতে, মধ্যনগর থাকি ধর্মপাশা যাইতে আরও এক ঘণ্টা, যাওয়া-আসায় খরচ লাগে ২০০ টাকা, কে যাইবো টিকা দিতো।’
মধ্যনগর থানার বংশিকু-া গ্রামের বিকাশ সরকার বললেন,‘আমরার এলাকার সচেতন ২-৪ জন ছাড়া কেউ টিকা নিতো গেছে না, হাওর এলাকা থাকি ট্রলারে, পরে গাড়িতে টেকা (টাকা) খরচ কইরা খুব কম মানুষ যাইবো টিকা দিতে’।
মধ্যনগরের আশরাফ মিয়া বা বিকাশ সরকার কেবল নয়। পুরো হাওরাঞ্চলেই এমন সংকট।
শাল্লার আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদ বললেন, টিকা দেবার তারিখে হাওরে ঢেউ ওঠলে ইচ্ছা করলেও শাল্লায় যেতে পারবে না মানুষ। তিনি বললেন, ইউনিয়নের মামুদনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকাদান কেন্দ্র করা গেলে সকলেই টিকা নিতে আসতো। তার মতে হাওরাঞ্চলের অনেক ইউনিয়নের মানুষই এই বর্ষাকালে টিকা নেবার জন্য উপজেলা সদরে আসতে পারবে না। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষেরা টিকা দেবে না।
তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বিশ^জিত সরকারও বললেন, এমনও গ্রাম আছে, এই বর্ষায় এসব গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে আসা যাওয়া করতে দুই-তিন’শ টাকা লাগবে। ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিকাদান কেন্দ্র করলে ভালো হত।
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বললেন, ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানায় ৪ টি ইউনিয়ন। একেকটি ইউনিয়নে ২৫-৩০ হাজার লোকসংখ্যা। বর্ষাকালে এসব ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রাম থেকেই যাতায়াত ব্যয়বহুল এবং সময়ও লাগে বেশি। ধর্মপাশা উপজেলা সদরে যাওয়া আসা করতে ৫০০ টাকা খরচ হয় এমন গ্রামও আছে মধ্যনগরে। দরিদ্র মানুষেরা কিভাবে ৫০০ টাকা খরচ করে টিকা দিতে যাবে। মধ্যনগর ১০ শয্যার মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকা কেন্দ্র করা হলে ভাল হয়। তাহলে দুর্গম হাওর এলাকার মানুষ হয়তোবা টিকা দিতে আসবেন।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বললেন, ভাটি এলাকার অনেক গ্রাম আছে, টিকার রেজিস্ট্রেশন করার পর নির্ধারিত দিনে হাওরে ঢেউ ওঠলে বা আবহাওয়া খারাপ হলে উপজেলা সদরে যেতে পারবে না। সেই ক্ষেত্রে টিকা গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তি সমস্যায় পড়বেন। শাল্লা উপজেলায় স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে আমরা শুকনো মওসুমেই আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করে নির্ধারিত দিনে ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে টিকা দিয়েছি। এবারও আমরা ঈদের পর আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে টিকা দেবার নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে টিকা প্রদানের উদ্যোগ নেব। হাওরাঞ্চলের সকল এলাকায়ই এমন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। না হয় বর্ষাকালে গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে আসা কঠিন হবে।
সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বললেন, আপাতত উপজেলা পর্যায়ে টিকা দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও আমরা শনিবার থেকে জেলার ছাতকের কৈতক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকা দেবার ব্যবস্থা করেছি। কারণ এটি বড় উপজেলা। দক্ষিণ ছাতকের মানুষ ছাতক উপজেলা সদরে যাওয়া অনেক বিড়ম্বনা। এজন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। মধ্যনগরের ক্ষেত্রেও আমরা এই চিন্তা করছি।