টিকার চুক্তি থেকে বের হওয়ার আইনি সুযোগ নেই ভারতের: পরিকল্পনামন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সেরাম ইনস্টিটিউটের করোনার টিকার চুক্তি থেকে বের হওয়ার আইনি সুযোগ নেই ভারতের। তিনি বলেছেন, আইন সে কথা বলে না। তবে টিকা প্রদানে ভারতের নিজেরই সক্ষমতায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী। একনেকের বৈঠক শেষে অনলাইনে মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
টিকা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নৈতিকভাবে টিকা দিতে বাধ্য ভারত। তবে তারা আমাদের প্রতিবেশি। সেখানে করোনায় কি মারাত্মক সংক্রমণ চলছে, সেটা আমরা জানি। এ কারণে তাদেরও নিজেদেরই করোনার টিকার সংকট তৈরি হয়েছে। তবে টিকা সংগ্রহে সরকার বসে নেই। বিকল্প চ্যানেল থেকে টিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে একনেকের মূল বৈঠকে করোনার টিকা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘তারা তাদের ঘর যদি সঠিক না করে, সেটা তাদের নিজেদের জন্য মুশকিলের ব্যাপার। এক্ষেত্রে তারা তাদের নাগরিকদের অবহেলা করে বা বাদ দিয়ে যেটুকু ভ্যাকসিন রয়েছে, তা আমাদের সরবরাহ করবে সেটা আশা করি না।’
ভারতের বর্তমান অবস্থা থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিচ্ছে জানিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের প্রতি আমাদের সমবেদনা আছে। আমরা পারলে তাদের সহায়তা প্রদান করবো। ভ্যাকসিন মিলছে না। অক্সিজেন মিলছে না। আশা করছি, এই অবস্থা আমাদের এখানে হবে না। ভারতের অবস্থা দেখে আমরা শিখছি।’
সেরামের টিকার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজে পড়ে এবং ইন্টারনেটে দেখে জেনেছি, ভ্যাকসিন যারা আবিষ্কার করে তাদের সক্ষমতা এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তারা এত ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারছে না। সুতরাং, এটা একটা জটিল ব্যাপার। আমাদের এ বিষয় নজরে আছে। আর আপনারা জানেন, ভ্যাকসিনের বিষয়ে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং সেটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।’
করোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে এতদিন একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই সময়টাতে কোভিডে ব্যতিব্যস্ত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার বলেছেন, তার প্রধান কাজ কোভিড মোকাবিলা করা। ব্যাখ্যা করে বললে আমাদের প্রতিবেশী বৃহৎ দেশ ভারতের কোভিডে যে তছনছ অবস্থা! পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে আমরা এটা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। এ সময় আমাদের সব কাজ কোভিডকে ঘিরেই ছিল।’
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বিটিসিএল একটি সরকারি কোম্পানি, ব্যাংক, বিমা ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সরকারি কোম্পানি, এদের নিজেদের আয়ে চলতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরা যেন সরকারি অনুদান ও ঋণ নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে। সরকার এদের আর কতকাল ঋণ বা অনুদান দিয়ে যাবে? কোম্পানিগুলোকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নিজেদের আয় দিয়ে এদের ব্যয় করতে হবে।
কীভাবে সরকারি কোম্পানিগুলো নিজেরা নিজেদের আয় দিয়ে চলবে, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কোম্পানিগুলোকে সব কিছু দেওয়া হয়েছে। ব্যবসার পলিসি তারা ভালো জানে, ব্যবসার পলিসি খাটিয়ে কোম্পানিগুলো আয় করে নিজেরা চলবে। কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে সরকার দিয়ে যাবে, এটা হতে পারে না।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিটিসিএল কোম্পানি, ব্যাংক কোম্পানি, বিমান, ইনসুরেন্স এদের নামই তো কোম্পানি। তারা যেন নিজেদের আয় দিয়ে ব্যয় করতে পারে, কতদিন সরকার এখানে টাকা দিয়ে চালাবে? এটা ইকোনোমিক্যালি গ্রহণযোগ্য নয়, এটা প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন।
এম এ মান্নান আরও বলেন, এদের (সরকারি কোম্পানি) মুখ থেকে ফিডার খুলে না নিলে এরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না। আমি চাই এদের সরকারি ঋণ বা অনুদান দেওয়া বন্ধ হোক। এভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে না। কোম্পানিগুলোকে দ্রুত সময়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো উচিত।
এদিকে খাল খনন প্রকল্পের নামে নয়-ছয়ে প্রধানমন্ত্রী সাবধান করে দিয়েছেন বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-সাবধান। খাল খননের নামে যেসক কা- হয় তিনি তা জানেন। আমরাও সবাই কম বেশি জানি। তিনি বলেছেন, ওপরের দিকে হালকা পরিষ্কার করে বেশি কাজ দেখানোর একটু প্রবণতা রয়েছে। সেটার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সাবধান করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, আজকের একনেক সভায় ১১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা ব্যয় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে আট হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।
ব্রিফিংয়ে পরিককল্পনা সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ( আইএমইডি) সদস্য এবং সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব মামুন-আল-রশীদ, আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব নাসিমা বেগম, শিল্প শক্তি বিভাগের সদস্য এবং চিব শরিফা খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।