- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

টিকা দানের ক্ষেত্রে প্রাযুক্তিক বিড়ম্বনা দ্রুত সমাধান করতে হবে

নিজে নিজে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা কার্ড ছাড়া যারা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন ফরম পূরণ করে টিকা গ্রহণ করেছেন তারা এখন তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্যদিকে নিবন্ধনকৃত অনেক টিকা গ্রহণকারীর আগের টিকা দেয়ার তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগ অনলাইনে হালনাগাদ না করায় তাদেরও বুস্টার ডোজের ক্ষুদেবার্তা আসছে না। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এসংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই ধরনের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করে বুস্টার ডোজের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের মধ্যে বয়স্ক লোকও রয়েছেন। এরা সকলেই সরকারি নির্দেশনার আলোকে টিকা নিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিভাগের দায়িত্ব ছিল টিকা দেয়ার পরপরই রেজিস্ট্রেশনের কাজ শেষ করা এবং টিকা প্রদানের তথ্য হালনাগাদ করা। এখন এইসব ব্যক্তিদের ভোগান্তির দায় কে নিবে? সবচাইতে উদ্বেগজনক তথ্য হলোÑ যাদের রেজিস্ট্রেশন ও তথ্য হালনাগাদ হয়নি তাদের নতুন করে এই প্রক্রিয়ায় ঢুকতে হবে। অর্থাৎ তাদের নতুন করে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। পরে টিকা কার্ড ডাউনলোড করে টিকাকেন্দ্রে যেতে হবে। টিকাকেন্দ্র থেকে হাল তারিখে টিকা দেয়ার ফাঁকা তথ্য অনলাইনে ঢুকানো হবে। এরপর তাদের দ্বিতীয় ডোজের ম্যাসেজ আসলে আবার একইভাবে ফাঁকা তথ্য বসাতে হবে। এইভাবে বুস্টার ডোজের ক্ষুদেবার্তা আসতে ঠিক কত সময় লাগতে পারে সে-সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া না গেলেও বুঝা যায় একজন নতুন টিকাগ্রহীতা ১ম ডোজ শুরু করার পর যেভাবে ২য় ডোজ ও বুস্টার ডোজ নিবেন এরাও একইভাবে তা পাবেন। তার মানে হলোÑ বুস্টার ডোজ পেতে এইসব ব্যক্তিকে আরও ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়টিকে চরম হয়রানিমূলক উল্লেখ করছেন।
সময়মত নিবন্ধন কিংবা তথ্য হালনাগাদ না করার দায় নিশ্চয়ই টিকা গ্রহণকারীর নয়। স্বাস্থ্যবিভাগ বলছেন, এটি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু নিবন্ধন করে যারা টিকা নিয়েছেন তাদের টিকা দেয়ার তথ্য অনলাইনে ঢুকানো নিশ্চয়ই স্বাস্থ্যবিভাগেরই কাজ ছিল। কেউই সময়মত নিজেদের কাজটি করেননি। আর এর ফল ভোগতে হচ্ছে কিছু মানুষকে। সত্যিই কি বিচিত্র ব্যবস্থাপনা। এদিকে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। দৈনিক গড়ে ৩০ শতাংশের উপরে করোনা শনাক্ত পাওয়া যাচ্ছে। কোন কোন এলাকায় এই সংখ্যা ৫০ শতাংশের মত। টিকা দেয়াকে করোনা নিয়ন্ত্রণের প্রধান অস্ত্র বিবেচনা করা হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে এখন এই জায়গায় বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এখন এর সমাধানের উপায় খোঁজে বের করতে হবে স্বাস্থ্য বিভাগকেই।
সচেতন মানুষ হয়ত বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। কিন্তু গণটিকা কার্যক্রমের আওতায় গ্রামাঞ্চলে যে বড় সংখ্যক ব্যক্তিকে টিকা দেয়া হয়েছে এবং অতিসম্প্রতি একইভাবে শিক্ষার্থীদের যেভাবে টিকা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে তাদের ব্যাপারে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে আমরা জানি না। তাদের তথ্য কি সুরক্ষা অ্যাপসে আপ-টু-ডেট করা হয়েছে? গ্রামের এইসব লোক হয়ত বুস্টার ডোজ গ্রহণের জন্য খোঁজ-খবরও রাখবেন না। এতে এরা বুস্টার ডোজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত এসব বিষয় সমাধান করতে হবে। নতুবা করোনা নিয়ন্ত্রণের যে কর্মযজ্ঞ সারা দেশে চলছে সেটি মুখ থুবড়ে পড়বে। যেকোন কাজে ব্যবস্থাপনা বড় বিষয়। এই জায়গায় ব্যত্যয় ঘটলে পুরো কাজটি উঠিয়ে আনতে বেগ পেতে হয়। ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও কীভাবে এর বাস্তবায়ন ঘটবে তা আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হয়। সরকারি কেন্দ্রে এনআইডি দেখিয়ে টিকা নেয়া ব্যক্তিদের নিবন্ধন সম্পন্ন না করা ও টিকা গ্রহণকারীদের তথ্য হালনাগাদ না করার চিত্র দেখে ব্যবস্থাপনার বিশেষ দুর্বলতাটি সামনে চলে এসেছে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে যতসম্ভব দ্রুত গতিতে।

  • [১]