টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কের বেহাল দশা

আকরাম উদ্দিন
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কের দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন নেই। সড়কের বেহাল দশায় মানুষ ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ৩ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সড়কের দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, টেংরাবাজার থেকে দোয়ারাবাজার চলাচল সড়কের কালিয়াকান্দি নামক স্থানে একাধিক বিশাল আকৃতির গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের কোনো কোনো স্থানে ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে পড়েছে। এই গর্তে প্রতিদিন একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। চলন্ত গাড়ি গর্তে গড়িয়ে পড়ে মানুষ পর্যন্ত আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান একাধিক ব্যক্তি।
দোয়ারা উপজেলার সুরমা, বোগলা ও লক্ষীপুর ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, চাকুরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এই সড়কে চলাচল করে থাকেন। এটাই উপজেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। বিকল্প চলাচলের কোনো যোগাযোগ সড়ক না থাকায় রোগীদের নিয়েও এই সড়কে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে গর্ভবতী মায়েদের মারাত্মক সমস্যা হয়। এই সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবি জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমুল্লাহ, মাছুম আহমদ, শহীদ মিয়া বলেন, টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কে অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেতে চায় না। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে দিবারাত্রি মানুষ চলাচল করেন। দুর্ঘটনায় পড়েন অনেকে। রোগীদের চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই।
পথচারী মন্তাজ আলী ও আব্দুল হাশিম বলেন, টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচল করলেও ঝুঁকিতে থাকতে হয়। যানবাহন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।
মটরবাইক চালক নুর আলম বলেন, টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কে আমরা গাড়ি নিয়ে চলাচল করলে সাবধানে করতে হয়, তবুও বিপদ চলে আসে। চলাচলের সময় ঝাঁকুনিতে গাড়িরও নানা সমস্যা দেখা দেয়।
সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মৎস্য খামারি আব্দুর রহিম বলেন, টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করেন। সড়কে গর্ত থাকায় চলাচলকারীদের ভোগান্তি হতে হয় চরমে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুর রহমান ও কামাল মিয়া জানান, দীর্ঘদিন আগে টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কের কাজ হয়েছিল। কাজও ভালমানের হয়নি। কয়েকদিন পর সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। সড়কে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বাড়তে থাকে।
এলাকার ইসহাক মিয়া, জাহার মিয়া, ইকবাল হোসেন, রমজান আলী, হাবিবুর রহমান জানান, টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়কে বড় আকারের কয়েকটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্তে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন গড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে।
শিক্ষক নাসির, শিক্ষক মুহম্মদ মশিউর রহমান বলেন, টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়ক অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক ছাড়া সীমান্ত এলাকার মানুষ দোয়ারা উপজেলায় নানা কাজে আসতে পারবে না। মানুষের ভোগান্তি নিরসনে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মেরামত জরুরিভিত্তিতে করা উচিৎ।
দোয়ারা উপজেলার সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, টেংরাবাজার-কালিয়াকান্দি সড়ক এলাকার মানুষের অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসা-যাওয়া করেন। সড়কে বড় বড় গর্ত থাকায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। জরুরিভিত্তিতে মেরামত প্রয়োজন।