ট্রাক নামার পথ নেই, বড়ছড়ায় আসছে না চুনাপাথর

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় শুল্কস্টেশন তাহিরপুরের বড়ছড়া দিয়ে গেল সোমবার থেকে ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানী বন্ধ রয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে এপারে ট্রাক আসার পথ বন্ধ থাকায় বড় এই বন্দর অচল হয়ে গেছে। আমদানী বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এ কারণে প্রায় দেড়শ’ আমদানীকারক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বেকার সময় কাটাচ্ছেন তিন হাজারেরও বেশি শ্রমিক।
সুনামগঞ্জের বড়ছড়া শুল্কবন্দর দিয়ে ভারতের মেঘালয় থেকে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানী হয়ে থাকে। সম্প্রতি মেঘালয়ে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় মেঘালয়ের কয়লা আসছে না বড়ছড়ায়। কিন্তু প্রতিদিন দুইশ’এর বেশি ট্রাক আমদানী করা চুনাপাথর নিয়ে আসে এই বন্দরে। চুনাপাথর বহনের কাজে নিয়োজিত আছেন তিন হাজারেরও বেশি শ্রমিক।
গত সোমবার থেকে মেঘালয় থেকে বড়ছড়া শুল্ক বন্দরে চুনাপাথরের ট্রাক আসতে পারছে না। যে পথ দিয়ে ওপার থেকে এপারে ট্রাক আসতো, সেখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প পথের ব্যবস্থা থাকলেও সেটি চালু করতে পারছে না আমদানীকারক সমিতি ও স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ কারণে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
বড়ছড়া আমদানীকারক সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বললেন, ভারতের মেঘালয়ের বড়ছড়া থেকে বাংলাদেশের বড়ছড়ায় যে পথ দিয়ে গত শনিবার পর্যন্ত পাথর বোঝাই ট্রাক নেমেছে, সেই পথে (সীমান্ত সড়ক) সেতু নির্মাণ হচ্ছে। এই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই পথ দিয়ে ট্রাক নামবে না। তবে ওখানে একটি বিকল্প পথ (বড়ছড়া আমদানীকারক সমিতির সামনের পথ) আছে, যেটি অনেক আগে ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি ব্যবহার করলে আমদানী বন্ধ করার প্রয়োজন হয় না। ভারতীয় রপ্তানীকারকরা এই পথ (ভারত অংশে) ব্যবহারের জন্য বিএসএফ’র পক্ষ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন। এখন বিজিবির পক্ষ থেকে অনুমতি পেলেই এই পথ দিয়ে ট্রাক নামানো সম্ভব হবে ও বন্দরে চাঞ্চল্য ফিরে আসবে। আমরা সেই মৌখিক অনুমতির অপেক্ষায় আছি। ২৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক এলাকা পরিদর্শন করেছেন, এখনো (বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত) বিজিবির পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয় নি। বিজিবির অনুমতি পেলে আমরা নিজেরাই সমিতির পক্ষ থেকে যোগাযোগ পথের উন্নয়ন কাজ করে ট্রাক চলাচলের ব্যবস্থা করে দেব।

দিনে ১৫ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি, বেকার তিন হাজার শ্রমিক


বড়ছড়া-চারাগাঁও সীমান্ত বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বললেন, প্রতিদিন মেঘালয় থেকে বড়ছড়ায় কমপক্ষে দুই’শ চুনাপাথর বোঝাই ট্রাক নামে। তাতে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। সোমবার থেকে এই রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে। বিকল্প পথে ওপার থেকে এপারে ট্রাক নামানোর অনুমতি নেবার জন্য আমদানীকারকরা চেষ্টা করছেন।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বললেন, সীমান্ত সড়কের কাজ হচ্ছে আমদানীকারকসহ সীমান্তবাসীর যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য। বড়ছড়ায় সেতুর কাজ যেদিন শুরু হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আমদানীকারক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন আমদানীকারকরা নিজেরাই বলেছেন, যে ছড়া দিয়ে সেতু করা হচ্ছে, সেটি তাদের ট্রাক নামানোর পথ ছিল না, ট্রাক নামানোর পথ সমিতির সামনের অংশ দিয়ে, তারা সেই পথই এখন ট্রাক নামাতে ব্যবহার করবেন।
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক সমিতির সভাপতি আলখাছ উদ্দিন বললেন, সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় ভারত থেকে পাথর বোঝাই ট্রাক আসতে পারছে না। আমরা বিকল্প পথে কাজ শুরুর জন্য বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা এসে এলাকা ঘুরে গেছেন, বলেছেন এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
একধিকবার ফোন দিলেও সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান মুঠোফোন রিসিভ না করায় এই বিষয়ে বিজিবির বক্তব্য সংযুক্ত করা যায় নি।