ঠিকানা লুকিয়ে চাকরি লাভ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মাহাবুবুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলা সদরের পাঁচপাইয়ের পাহাড়পুর এলাকায়। তিনি তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মা সাজেদা খানমের সাথে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন নেত্রকোনার সাতপাই এলাকায়। অথচ মাহাবুবুল ইসলাম সম্প্রতি ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেখইজোড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে বেখইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালাম চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার মাহাবুবুল ইসলামের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। আর এতেই বিষয়টি সামনে আসে।
এ ব্যাপারে মাহাবুবুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোন নম্বর কোনোভাবেই সংগ্রহ করা যায়নি। এমনকি শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মাহাবুবুলের নেত্রকোনার সাতপাই বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে উপস্থিত মাহাবুবুলের মা সাজেদা খানমের সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, শুধুমাত্র চাকরি লাভের জন্য মাহাবুবুল ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন।
সাজেদা খানম জানান, বেখইজোড়া গ্রামে তাঁর ছোট বোন মাজেদা খানমের বিয়ে হয়েছে। সেই সূত্র ধরে ছেলের চাকরি লাভের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই নাগরিকত্ব লাভের আশায় বেখইজোড়া গ্রামের পশ্চিম দিকে চার কাটা জমি কিনেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংগ্রহ করেন ট্যাক্স রশিদ। সেই রশিদ ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন। আবেদন সফল হয়। কয়েক দিনের মধ্যে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তারা সংগ্রহ করবেন। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি আর বিতর্ক তৈরি হওয়ায় মাহাবুবুল চাকরিতে যোগদান করবেন না বলেও জানান সাজেদা খানম।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাহাবুবুল বা তার পরিবারের কেউ বেখইজোড়ার বাসিন্দা নয়।’
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘জায়গা কেনার কাগজ দেখানোর কারণে নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছি। তারা (মাহাবুবুল) এখন নেত্রকোনায় বসবাস করেন। শুনেছি তারা এখানে (বেখইজোড়া) এসে বসবাস শুরু করবেন।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ যে তথ্য দিবে সে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়াও নাগরিকত্ব সনদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।’