ডা. সতীশ চন্দ্র দাস আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ চিকিৎসক সতীশ চন্দ্র দাস (৯১) পরলোক গমন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৬.৫৫ মিনিটে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে তিনি মারা যান। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। বিকেলে শহরের ধোপাখালীস্থ কেন্দ্রীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে ডা: সতীশ চন্দ্র দাস’র বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সতীশ চন্দ্র দাস ১৯৫৭ সাল থেকে সুনামগঞ্জ শহরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন। শহরে এক সময়ে দু-তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতের বালাট ক্যাম্প ও মইলাম অস্থায়ী ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের সেবা দেন।
ডা. সতীশ চন্দ্র দাস ৫ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মীর শওকত আলী বা সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর মোতালিবের কাছ থেকে কোনো সনদ আনেন নি তিনি। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৬ ফেরুয়ারি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির ৭ জনের স্বাক্ষরিত তালিকায় ৩৩ নম্বরে তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত হয়। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত হয়নি।
ডা. সতীশ চন্দ্র দাশের ছেলে লিপন দাশ জানান, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা খেতাব না পাওয়ার দু:খ নিয়ে পরলোকগমন করেছেন। ভারতের বালাট ক্যাম্পের অস্থায়ী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে এবং অন্যান্য সেবা কেন্দ্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। বাবার অধীনস্থ সেবিকা বীরঙ্গনা উপাধিতে ভুষিত হয়েছেন। এই কথা শুনে তিনিও মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পাবেন এমন আশায় ছিলেন তিনি।