ডুবন্ত বাঁধ পদ্ধতি নয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণের যুগে প্রবেশের সময় এখন

নজির হোসেন
আমি মনে করি হাওড়, মাস্টার প্ল্যান, সিডা ফ্যাপ ৬ ইত্যাদি পরিকল্পনা তত্ত্ব আকার আকৃতি ব্যাপক। হাওড় মাস্টার প্ল্যানে হাওড় এলকার উন্নয়নে ১৭ টি সমস্যা উল্লেখ করেছেন। সর্বমোট হাওড় সংখ্যা ৩৭৩ টি। ৪ জেলায় হাওড়ের সংখ্যা বেশী। সুনামগঞ্জ ৯৫ টি, সিলেট ১০৫টি, নেত্রকোনা ৫২টি, কিশোরগঞ্জ ৯৭ টি। মাস্টার প্ল্যানে বাজেটের আকার ২৩৯৪০১ লাখ অর্থাৎ ২৩৯৪ কোটি একলাখ টাকা। এটা হলো সাত জেলার বাজেট। সুনামগঞ্জের অংশে পড়বে তিন হাজার চার শত বিয়াল্লিশ কোটি টাকা। জরুরী প্রকল্প বিবেচনায় ১০১২ কোটি হলেই নিন্মোক্ত জরুরী উপাদানগুলির বাস্তবায়ন সম্ভব।
জেলার ৬টি নদীর ৯৮ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য ২৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ দওয়া হয়েছে। ৬টি নদীর মধ্যে রক্তি, জাদুকাটা ও আপার বৌলাই নদীর খনন কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকি নদীর খনন কাজও শীঘ্রই শুরু করা হবে। নদী খননের একটি দর্শন একটা ভিশন থাকতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৩ নদী খননের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছেন। প্রশ্নটা হলো কেন ? আমাদের সমস্যা হলো অকাল বন্যা। চৈত্রমাসে মেঘালয়ের খানসী বাংলাদেশের যাদুকাটা রক্তি বৌলাই সিস্টেমে নেমে আসা পানির ঢলকে সামলানো ৷ এজন্য নদী খনন হাওড়ের ফসল রক্ষা করা ৷ ইকোলজি উদ্ধার ফিস মাইগ্রটরী রোড এবং স্পাউনিং গ্রাউন্ড উদ্ধার ৷বাও ডাইভারসিটি ফিরিয়ে আনা এজন্য প্রয়োরিটি প্রোগ্রাম হলো যাদুকাটা বৌলাই সিস্টেম এর নদী খনন উপরের বর্ণিত কম্পোনেন্ট যুক্ত করে প্রজেক্ট তৈরি করা।
অকাল বন্যা ও মৌসুমী বন্যার জন্য নিম্মোক্ত ৩টি জরুরী প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া। জরুরীভাবে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে ডুবন্ত বাঁধ পদ্ধতি থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের যুগে প্রবেশ করা। বাজেট প্রাক্ষলন ও বাস্তবায়ন। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা।
(১) সুরমা কুশিয়ারার মিলনস্থল থেকে ভৈরব হয়ে মেঘনা পর্যন্ত খনন অতি জরুরী।
(২) মেঘালয় বাংলাদেশ আন্তদেশীয় ৭ টি নদীর (যাদুকাটা, জালকালি, নেতাই, সুমেশ্বরী, ঢালা পিয়াং সারি গাও) পানি নির্গমনের ২টি অতি প্রয়োরিটি পথ। পুরাতন সুরমা খনন করে কুশিয়ারা সিস্টেমে জল নিয়ে যাওয়া।
৩। খানসী নদী (মেঘালয়ের পাহাড়ী অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত) যাদুকটা, রক্তি সুরমা এবং রক্তি থেকে ফতেপুর (আবুয়া) ও বৌলাই হয়ে সুরমা নদী। বৌলাই সিস্টেম জামালগঞ্জ থানার আহসানপুর থেকে ঝারাকোনা সুখাইড় হয়ে লালপুর এর কাছে সুরমায় মিলিত হয়েছে। অপর অংশ ফাসুয়ার হাওড়ের পাশ দিয়ে শানবাড়ী জয়শ্রী হয়ে দৌলতপুর হয়ে গজারিয়ার কাছে সুরমায় পতিত হয়েছে। অর্থাৎ যাদুকাটার অকাল বন্যাজনিত জলরাশি জামালগঞ্জ উপজেলার ৩টি পয়েন্টে সুরমানদীতে নিয়ে আসা।
তাহিরপুর উপজেলা ও ধর্মপাশা উপজেলাব্যাপি বউলাই সিসটেম বিস্তৃত। এই সিস্টেমের জলরাশি জামালগঞ্জের দুর্লভপুর, লালপুর গজারিয়ায় অতি সহজেই নিয়ে যাওয়া যায়।
১। যাদুকাটা থেকে খানসীর একটি অংশ পাটলাই নদীতে মিলিত হয়েছে। এখানে মাহরামনদী বলে কোন নদী নেই। মাহরাম বিশেষত উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুল বাগানের কাছ থেকে পুরাতন খানসী নামে পাটলাই নদীতে মিলিত হয়েছে।
এখানেই টাংগুয়ার হাওড় ফিস মাইগ্রেটরী রোডটি প্রবাহিত। টাংগুয়া থেকে বৈশাখ যষ্টি মাসে কার্প জাতীয় মা মাছ পাটলাইনদী হয়ে খানসীর উজান ¯্রােত বেয়ে পুরাতন খানসী যাদুকাকাটায় মিলিত হয়ে মেঘালয়ের রানীকর জেলার উমরিয়ালাং এবং ওয়া খানসির বিভিন্ন নদীতে ছড়িয়ে পড়ে গভীর খাদে ডিম পারতো। আষাড় মাসের বন্যার পানিতে কোটি কোটি পোনা বাংলাদেশের হাওড় নদীতে ছড়িয় পড়তো। কার্তিক মাসে পোনা বড় মাছে পরিনত হয়ে হাওড় বিল ও নদীতে ফিরে আসতো। এটাই ছিল টাংগুয়াভিত্তিক ফিস ইকোলজী ।
লেখক: সাবেক সংসদ সদস্য