ঢলের পানি থেকে জাল দিয়ে কয়লা সংগ্রহ

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার স্থল শুল্ক স্টেশন চারাগাঁও। দীর্ঘদিন ধরে এ স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানী বন্ধ রয়েছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন এ স্থল শুল্ক স্টেশন এলাকার প্রায় ৫ হাজার কয়লা পরিবহন কাজের শ্রমিক। বর্ষাকালে এ সমস্ত বেকার কয়লা শ্রমিকরা অপেক্ষায় থাকেন কবে নাগাদ মেঘালয় পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসবে। কারণ পাহাড়ি ঢলের পানির সাথে নেমে আসে কয়লা। ঢলের পানি থেকে জাল দিয়ে কয়লা সংগ্রহ করেন সীমান্তের হাজারো নারী পুরুষ।
চারাগাঁও গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, কয়লাগুলো শ্রমিকরা স্থানীয় ঠেলা জাল দিয়ে উঠিয়ে উঁচু জায়গাতে জমাট করে রাখেন। স্থানীয় ভাবে এ কয়লাকে ‘বাংলা কয়লা’ বলে পরিচিতি লাভ করেছে। মেঘালয় পাহাড়ে প্রতিদিন রাতে যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয় তাহলে কয়লা শ্রমিকরা অপেক্ষমান থাকে ভোর রাতে পাহাড়ি ঢল আসবে। সেই ঢলের সাথে নেমে আসবে কয়লা।
বাংলা কয়লা উত্তোলনকারী শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দ্বীন ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে শুক্রবার রাত ৪টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শুক্রবার ভোর থেকেই চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন এলাকায় পাহাড়ি ঢল নামে। আমরা ঠেলাজাল নিয়ে কয়লা সংগ্রহ করতে নামি। ঢলের পানি আবার বেশীক্ষণ থাকে না, দুপুর ১২টা ১টা পর্যন্ত থাকে। যতক্ষণ ¯্রােত থাকে ততক্ষণই কযলা তোলা যায়।
কয়লা শ্রমিক সাকিরুল মিয়া বলেন, বেশী করে পাহাড়ী ঢল নামলে একজন শ্রমিক ৫ থেকে ৬ বস্তা কয়লা সংগ্রহ করতে পারে। প্রতি বস্তা কয়লা ৩’শ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। আর কম করে পাহাড়ি ঢল নামলে একজন শ্রমিক ২ থেকে ৩ বস্তা কয়লা সংগ্রহ করতে পারে।