- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

তাজ মিয়া হত্যাকাণ্ড, মামলা তুলে নেয়ার হুমকী দিচ্ছে আসামীরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় তাজ মিয়া (৪০) নিহত হন গত ১৪ অক্টোবর। এ ঘটনায় ছোটভাই খালেদ আহমদ চারজনের নাম উল্লেখ করে সুনামগঞ্জ জজকোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশনা প্রদান
করেন। কিন্তু আড়াই মাস পার হতে চললেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না থানা পুলিশ। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছেন। বড়ভাই হত্যায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সিলেট বিভাগীয় পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে ও নিহত তাজ নূরের ছোটভাই আবু খালেদ। ২৮ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগীয় মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন তিনি। 
লিখিত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, তার বড়ভাই তাজ নূর হত্যাকা-ের আড়াই মাস হতে চললো। আদালতের নির্দেশ থাকার পরও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করছেন না। মামলার আসামীরা হলেন- একই গ্রামের মৃত বশিদ আলীর ছেলে রুহুল আমীন (২৬), আমরিয়া গ্রামের মৃত আফসোছ মিয়ার ছেলে আনছার মিয়া (৪৫), শুকুর মিয়ার ছেলে নূরুজ্জামান (২৫) ও কামরুজ্জামান (২৩)। তারা প্রত্যেকেই বাড়ীতে বসবাস করছেন এবং নানান সময় মামলার বাদী আবু খালেদকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকী দেয়। এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা ও ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় আঁকুতি জানিয়ে আসছেন ছোটভাই খালেদ। নিহত তাজ নূরের তিনটি শিশু সন্তানও রয়েছে। 
এ ব্যাপারে নিহতের ভাই আবু খালেদ জানান, মামলা তুলে নিতে আসামীরা একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। নিহতের পরিবার থেকে বার বার থানায় গিয়েও আসামীদের গ্রেফতার অনুরোধ জানালেও কোন আসামী এখনও গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন আবু খালেদ ও তার পরিবার। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন আবু খালেদ। 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. মোক্তাদির হোসেন ছুটিতে আছেন জানিয়ে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, এই মৃত্যুটি নিয়ে একটি ভিন্নমত আছে। আমরা পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করছি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রিপোর্টটি পেয়ে যাবো। রিপোর্টটি হাতে আসলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।
প্রসঙ্গত, ১৪ অক্টোবর বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মাছ ধরার ছাই পাতানো নিয়ে কাবিলাখাই গ্রামের মার্কেটের সামনে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় আসামীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যপুরিভাবে তাজ মিয়াকে আঘাত করেন। আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তাজ মিয়া। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তাররা তাজ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • [১]