তাজ মিয়া হত্যা মামলা/ প্রধান আসামী রুহুল আমিন দুই দিনের রিমাণ্ডে

স্টাফ রিপোর্টার
শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাবিলাখাই গ্রামের তাজ মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী রুহুল আমিন কে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাদুজ্জামান রিমা- শুনানী শেষে রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের সুনামগঞ্জের আদালত পরিদর্শক মো. বুরহান উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমাণ্ডের আদেবন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রিমাণ্ড শুনানীর পর আদালত দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত, থানায় মামলার ২১ মাস পর (পৌণে দুই বছর) শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাবিলাখাই গ্রামের তাজ মিয়া হত্যা মামলার প্রধান রুহুল আমিন (২৬) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ৩০ জুলাই শনিবার গভীর রাতে নিজ গ্রাম থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন কাবিলাখাই গ্রামের রশিদ আলীর ছেলে। এরপর রুহুল আমিন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সিলেট অফিসের পরিদর্শক জিএম কামরুজ্জামান।।
আদালত ও মামলার সূত্র জানা যায়, কবিলাখাই গ্রামের রুহুল আমিন ও আব্দুল হাই, পার্শ্ববর্তী আমরিয়া গ্রামের আনছর মিয়া, নুরুজ্জামান ও কামরুজ্জামান প্রায়ই জোর করে তাজ মিয়ার ডোবায় মাছ ধরতে চাইলে তিনি বাধা নিষেধ করতেন। এ নিয়ে তাদের সাথে চরম বিরোধ চলছিল। ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে অভিযুক্তরা জোর করে মাছ ধরছে এমন খবর পেয়ে মাছ ধরায় বাধা নিষেধ করেন তাজ মিয়া। বিরোধের জের ধরে তাজ মিয়াকে মারধর করে রুহুল আমিন, আনছর মিয়া, নুরুজ্জামান, কামরুজ্জামান ও আব্দুল হাই। তার চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাজ মিয়া কে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহত তাজ মিয়ার পরিবার শান্তিগঞ্জ (সাবেক নাম দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) থানায় হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এরপর ২১ অক্টোবর নিহতের ছোট ভাই আবু খালেদ আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তিগঞ্জ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২৭ অক্টোবর শান্তিগঞ্জ থানা তাজ মিয়ার মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে (মামলা নং-১৮, তারিখ ২৭/১০/২০২০ ইং)।
মামলার পর তদন্ত শেষে শান্তিগঞ্জ থানার পুলিশ আদালতে তাজ মিয়া হত্যা মামলা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজী দিয়ে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগ করেন বাদী আবু খালেদ। আদালত বাদীর নারাজীর আবেদন গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেন (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে তাজ মিয়া হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই সিলেট অফিসের পরিদর্শক জিএম কামরুজ্জামান।