তামাক কোম্পানি কর্তৃক প্রচারিত দায়সারা রাজস্ব মিথ

জাহাঙ্গীর আলম
তামাক ও তামাকজাত পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অসংক্রমক রোগের মধ্যে অন্যতম ক্যান্সার তামাকজাত দ্রব্যের প্রভাবেই হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ভাবছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। দেখা গেছে কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণে তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধি একটি স্বীকৃত পদ্ধতি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সহজ ও শক্তিশালী একটি কর নীতি প্রণয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তামাক নিয়ন্ত্রণ সংগঠন এবং রাষ্ট্রের কল্যাণ প্রত্যাশী নীতি নির্ধারক ও জনপ্রতিনিধীরা তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসলেও প্রতিবছর তামাক কোম্পানীগুলো তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে গ্রহণ করে নানা অপকৌশল।
সম্প্রতি স্বপ্নডানা সুনামগঞ্জ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের টেকনিক্যাল সার্পোটে সুনামগঞ্জ জেলায় কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া সিলেট, খুলনা, যশোর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, রাজশাহী. রংপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানীগুলো ২০২০ সালে কি ধরনের কৌশল অনুসরণ করেছে সে বিষয়ে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অত্র এলাকায় তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধিতে কার্যরত সংস্থার প্রেরণকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করে এর উপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।
তামাক কোম্পানীগুলো সর্ব ক্ষেত্রে কৌশলী পন্থা অবলম্বন করছে। তাদের মুনাফার বাইরে কিছুই দেখছে না। দেশের মানুষকে স্বাস্থ ঝুঁকিতে ফেলে নাম মাত্র কর দেখিয়ে ফায়দা লুটছে। অথচ সরকারকে প্রতি বছর স্বাস্থ খাতে তামাকজাত দ্রব্যের দ্বারা ক্ষতি পোষাতে অতিরিক্ত বাজট বৃদ্ধি করতে হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণে তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
লেখক : প্রধান নির্বাহী, স্বপ্নডানা সুনামগঞ্জ।