তাহিরপুরে করোনায় বন্ধ কিশোর-কিশোরী ক্লাব, হতাশায় শিক্ষার্থীরা

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
পিছিয়ে থাকা পরিবারের কিশোর-কিশোরীদের জীবনমান উন্নয়ন ও জেন্ডার বৈষম্যের শিকার কিশোরীদের সমাজের উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চালু করা হয় কিশোর-কিশোরী ক্লাব। যা হাওরাঞ্চলের কিশোর কিশোরীদের জন্য আশার আলো হয়ে
দেখা দেয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে পড়ে ক্লাবের কার্যক্রম। ফলে হতাশায় ভুগছে এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা।
সূত্রে জানা গেছে, কৈশোরে যৌন নিপীড়ন, বাল্যবিবাহ, জেন্ডার বৈষম্য, যৌতুক প্রতিরোধ, শিশু অধিকার, নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়গুলোতে মেয়েরা নানান প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জের শিকার হয়। বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়া পরিবারের কিশোর-কিশোরীরা। এসকল কিশোর-কিশোরীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবনমান বিকশিত ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব চালু করে। প্রতিটি ক্লাবের ১১-১৮ বছর বয়সী সদস্য থাকেন ৩০ জন। এর মধ্যে ১০ জন কিশোর ও ২০ জন কিশোরী। সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ক্লাস নেয়া হতো। ক্লাসের কার্যক্রম একজন সঙ্গীত ও আবৃত্তি শিক্ষক এবং একজন জেন্ডার প্রমোটার এর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। করোনার কারনে এসকল ক্লাবের কার্যক্রম শুরুর কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলার মোট ৭টি ক্লাবের মধ্যে ৪টি ক্লাবের দায়িত্বে থাকা জেন্ডার প্রমোটার আলমাস নুর বলেন, কিশোর কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের শুরুতেই সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে এখন তা বন্ধ আছে। আর জেন্ডার প্রমোটার পদে আমাদের চাকুরীটা ছিল চুক্তিভিত্তিক। ক্লাব বন্ধ থাকায় আমরাও বেতন পাচ্ছি না। অন্য কোন কাজও পাচ্ছি না সবমিলিয়ে পরিবার নিয়ে বিপাকে আছি।
তাহিরপুর সদর, বড়দল উত্তর ও বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩টি ক্লাবের দায়িত্বে থাকা জেন্ডার প্রমোটার রিপা বর্মন জানান, অনেক শিক্ষার্থী ফোন করে জানতে চাই ক্লাস কবে শুরু হবে। প্রায় ৪ মাস ক্লাস হয়েছিল। এ সময়ে আমার এরিয়াতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ২টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পেরেছিলাম।
ক্লাবের শিক্ষার্থী অনন্যা সরকার তৃণা জানায়, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক, যৌন নিপীড়ন, যৌতুক, নারী অধিকার ইত্যাদি নানান বিষয়ে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আনিসুর রহমান বলেন, করোনার জন্য কিশোর কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম বন্ধ আছে। তাছাড়া ২০১৮ দিকে শুরু করা এ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে। আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করেছি প্রকল্পের মেয়াদ যেনো বাড়ানো হয়। আশা করছি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেই পুনরায় কিশোর কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম চালু করা যাবে।