তাহিরপুরে বাদাম চাষে লাভবান কৃষকরা

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কৃষকগণ বাদামের আবাদ করে সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন। এবছর উপজেলায় বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল এ দুই ইউনিয়নে ৩ হাজার একর জমিতে বাদাম চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, সুন্দর পাহাড়ি, মোল্লাপাড়া, ঘাগড়া জৈতাপুর, কুনাটছড়া, রহমতপুর, পুরান লাউড়, লাউড়েরগড়, ছড়ারপাড় ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর, চানপুর, মাহারাম, করপুলার হাওর ও ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের কৃষক তাদের চাষ করা বাদাম উত্তোলনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ঘাগটিয়া, সুন্দর পাহাড়ি, মোল্লাপাড়া, ঘাগড়া জৈতাপুর, কুনাটছড়া, রহমতপুর, পুরান লাউড়, লাউড়েরগড়, ছড়ারপাড়, শান্তিপুর, চানপুর, মাহারাম, করপুলার হাওর ও ব্রাহ্মণগাঁও সহ কয়েকটি এলাকার প্রায় ৩ হাজার একর বেলে জমিতে ঝিংগা, ত্রিকনা, মাঝইর ও ঢাকা-১সহ বিভিন্ন জাতের বাদামের আবাদ হয়। দু’টি ইউনিয়নে প্রায় তিন শতাধিক কৃষক তাঁদের জমিতে বাদামের আবাদ করেন। বিগত বছর এ দু’টি ইউনিয়নে আড়াই হাজার একর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, তাহিরপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন নীচু এলাকায় অবস্থিত। ওই ইউনিয়নগুলোতে কোন কৃষক বাদাম চাষাবাদ করেন না। বাকী দু’টি ইউনিয়ন বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়ন উঁচু এলাকায় অবস্থিত। এ দুটি ইউনিয়নের অধিকাংশই বেলে মাটি। ওই মাটিতে বাদাম চাষে খুব ভাল ফলন হয়।
চানপুর গ্রামের কৃষক হেকমত আলী বলেন, চানপুরের হাওরটি দু’ফসলী হাওর। এলাকার কৃষকরা আগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার পর সবাই বাদাম আবাদ করেন। তিনি আরো বলেন, ধান চাষের চাইতে বাদাম চাষ করে তারা বেশী লাভবান হচ্ছেন।
বাদাঘাট ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম। তিনি বলেন, এ বছর তিনি ৫ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমিতে বাদাম চাষাবাদ করছিলেন। প্রতি কিয়ার জমিতে ৬ মণ করে বাদাম পেয়েছেন। প্রতি মণ বাদাম তিনি বিক্রি করছেন ৪ হাজার টাকায়। এতে করে তিনি প্রতি কিয়ার জমির বাদাম ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন এবং প্রতি কিয়ার জমিতে বাদাম রোপন ও আনুসাঙ্গিক ব্যয় হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা।
রবিবার দুপুরে উপজেলার শান্তিপুর, চানপুর, মাহারাম, করপুলার হাওর ঘুরে দেখা যায়, বেলে জমিতে রাশি রাশি বাদাম খেত। সবুজ বাদাম খেতের সৌন্দর্য্যে ভরে গেছে গোটা সীমান্ত এলাকা। স্থানীয় কৃষকেরা ওই বাদাম উঠাতে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ কেউ খেত থেকে থোকা থোকা কাঁচা বাদাম তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ি। কাঁচা বাদামের ঘ্রাণে ছেয়ে গেছে সীমান্ত এলাকা।
বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত নভেম্বরে ধার করে তাঁর আড়াই কিয়ার জমিতে শাকসবজির আবাদ করেন। গেল তিন দফার বৃষ্টিতে অধিকাংশ সবজিই নষ্ট হয়। এতে বড় লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। হতাশা ঝেড়ে নতুন উদ্যমে আরও ৩ কিয়ার জমিতে আবাদ করেন বিভিন্ন জাতের বাদাম। ফলনও ভালো হয়।
সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের কাচু মিয়া বলেন, তার জমির উৎপাদিত বাদাম বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভের আশা করছেন। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব তেমন না থাকায় এবার তাহিরপুরে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাদামের দানাগুলোও বেশ পুষ্ট হয়েছে। কৃষকেরাও ভালো দামে বিক্রি করছেন সেগুলো। এতে ভবিষ্যতে চরাঞ্চলে আরও বেশিসংখ্যক কৃষক বাদাম চাষে আগ্রহী হবেন।