তাহিরপুরে হালিচারা রোপণে বাধা, পানি নিস্কাশনে ধীরগতি

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের হালিচারা রোপনের কাজ পিছিয়ে পড়েছে। ফলে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওরের পানি খুব ধীরগতিতে নামার কারণে এখনও অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে চারা রোপন করতে পারছে না কৃষক।
দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের বৃহৎ বোরো ফসলি এলাকা হলো তাহিরপুর। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় ছোট-বড় ২৩টি হাওর রয়েছে। ২৩টি হাওরে জমির পরিমাণ ২৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চাষাবাদ উপযোগী রয়েছে ২০ হাজার হেক্টর। তবে পানি না নামলে এবার সেখানে বোরো উৎপাদন করা কঠিন হয়ে যাবে কৃষকের জন্য।
উপজেলার শনির হাওরপাড়ের গ্রাম সাহেবনগর। ওই গ্রামের কৃষক কামরুল মিয়া, নোয়ানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির, ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলীসহ অনেকে জানান, গত বছর কার্তিক মাসেই হাওরপাড়ের অধিকাংশ কৃষক হালিচারা রোপন করে ফেলেছিলেন। কিন্তু এ বছর কার্তিক প্রায় শেষ হয়ে এলেও হাওরের পানি না নামায় সেখানে হালিচারা রোপণের কাজ শুরু করতে পারেননি তারা। পাঁচ দফা বন্যায় এত পানি হয়েছে হাওরে যে তা সরতে সময় লাগছে। তা ছাড়া নদীর তলদেশ পলিমাটিতে ভরাট হয়ে উঁচু হয়ে যাওয়ায় হাওরের পানি নামতে পারছে না। এ রকম চলতে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে এবার কৃষককে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান-উদ-দৌলা বলেন, হাওরের পানি ধীরগতিতে সরার কারণে এ বছর বোরো জমির চারা রোপনের কাজ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে এতে কৃষকদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। কৃষি বিভাগ তাদের পাশে থাকবে।
ইউএনও পদ্মাসন সিংহ বলেন, উপজেলার অনেক কৃষকই তাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে হাওরের পানি না কমায় বোরো আবাদের কাজ পিছিয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে এ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশি কিছু করার নেই।