তাহিরপুরে ৫ দিন ধরে এমওপি সারের সংকট

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বোর রোপন মৌসুমের শুরুতেই এমওপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষক বোর জমি রোপন করছেন কিন্তু ডিলারদের ঘরে সার পাচ্ছেন না। খুচরা দু’একজন ডিলার ও বিভিন্ন গ্রামে বেশ কয়েকজন দোকানদার এমওপি সার বিক্রি করছেন। কৃষকদের কাছ থেকে ৫০ কেজি (১ বস্তা) সারের দাম নিচ্ছেন ক্ষেত্র ভেদে ৮৮০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত।
জানা যায়, বর্তমানে এমওপি সারের বাজার দর রয়েছে ১ বস্তা (৫০ কেজি) ৭৫০ টাকা। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন ব্যতীত ৬ ইউনিয়নে ৬ জন (বিসিআইসি নিয়োগ প্রাপ্ত) সার ডিলার রয়েছেন। সেই সাথে উপজেলায় ১৫/১৬ জনের মতো খুচরা ডিলার রয়েছেন। চলতি বছর ৬ জন ডিলারদের মধ্যে ৬৬৬ বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রত্যেক ডিলার ১১১ বস্তা বরাদ্দ পান। নিয়ম অনুসারে ইউনিয়ন ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে খুচরা ডিলাররা বিক্রি করে থাকেন।
চলতি মাসে এমওপি সার কম বরাদ্দের কারনে গুদামে সার ওঠানোর পর পরই প্রত্যেক ডিলারেদের এমওপি সার বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিভিন্ন বাজারে খুচরা ডিলার ও সাধারণ দোকানীরা দেদারছে এমওপি সার বিক্রি করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে ভৈরব সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কালো বাজারে সার কিনে এনে অতিরিক্ত দাম দিয়ে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছেন। আর কৃষকরাও সার না পেয়ে বেশী দামে সার কিনছেন। বাজারে অতিরিক্ত দামে এমওপি সার বিক্রি করছেন বাদাঘাট বাজরের খুচরো ডিলার হাফিজুর রহমান, বালিজুরী বাজার এমদাদ মিয়া, আনোয়ারপুর বাজার নাজমুল হুদা, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের আব্দুস সাত্তার, লামাগাও বাজার প্রভাত তালুকদার।
ডিলার না হয়েও যারা সার বিক্রি করছেন তাদের মধ্যে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চিকসা গ্রামের আমিন মিয়া, খালেদ মিয়া, জামালগড় গ্রামের ইনু মিয়া, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের শাহ আলম মিয়া, ডালিম মিয়া, সুলেমানপুর বাজারে রাসেল মিয়া সহ অসংখ্য লোকজনের নাম কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কথা হয় আনোয়ারপুর বাজার খুচরা ডিলার নাজমুল হুদার সঙ্গে । তিনি জানান, একটু বেশী দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। আমার কাছে আপাতত সামান্য সার রয়েছে। দু এক দিনের মধ্যে সার উঠবে।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক সুনীল দাস বলেন, তাহিরপুর সদর বাজারে লাল সার (এমওপি) না থাকায় আমি ও গ্রামের কয়েকজন কৃষক মিলে আনোয়ারপুর বাজারে নাজমুল মিয়ার দোকান থেকে এক বস্তা সার কিনি ৮৫০ টাকা দিয়ে। একই অবস্থার কথা জানালেন, মহালিয়া হাওর পারের কৃষক বুলবুল মিয়া। তিনিও জানান, তিনি বাদাঘাট বাজার থেকে ৮৫০ টাকা দিয়ে এক বস্তা লাল সার কিনেন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন সার ডিলার সাময়ুন কবির বলেন বরাদ্দ নাই। বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত এমওপি সার পাওয়া যাবে না । তিনি আরও বলেন, গত ৫দিন ধরে এমওপি সারের সংকট রয়েছে।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন খুচরা ডিলার প্রভাত তালুকদার জানান, সার রয়েছে পরিমানে কম। বেশী নিলে দু’একদিন অপেক্ষা করতে হবে। সেই সাথে তিনি বলেন দামও একটু বেশী পরবে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন তাহিরপুর ইউনিট সভাপতি নুর মিয়া বলেন, আমাদের ৬ জন ডিলারকে চলতি মাসে ৬৬৬ বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। আমাদের কোন ডিলারের কাছে বর্তমানে এমওপি সার নেই।
তাহিরপুর উপজেলা কুষি সম্প্রসারণ অদিধপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ডিলার ব্যতিত সার বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। ডিলার ও খুচরা ডিলার ব্যতিত অন্য কেউ খোলা বাজারে সার বিক্রি করতে পারেন না।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ-দৌলা বলেন,্ এমওপি সার সংকট রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বরাদ্দ চলে আসবে। কোন ডিলাররা এমওপি সার বাজার মূল্য থেকে বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে বলেও কোন কৃষক আমাকে অবহিত করেননি। আমি বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছি।