তিনি পথচ্যুত হননি

দেওয়ান শামছুল আবেদীন
সুনামগঞ্জ হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছি, হঠাৎ মোবাইলের রিং বেজে উঠলো। হুমায়ূন মঞ্জুর চৌধুরী ফোন করলেন। বললেন, আমাদের শাহরিয়ার আর নেই। কোভিড আক্রান্ত হয়ে চিরদিনের জন্য চলে গিয়েছে এই পৃথিবী থেকে। স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম গাড়িতে। আর ছবির মতো ভেসে উঠছিলো সেই দিনগুলো। ক্লাস ফোরে ভর্তি হয়েছি সুনামগঞ্জ গভর্নমেন্ট জুবিলী হাই স্কুলে। সেই থেকে শুরু আমাদের বন্ধুত্ব। শাহরিয়ার ছিলো একজন মেধাবী ছাত্র। সে আমাদের স্কুলের ছিলো একজন ভালো স্কাউট। আমরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতাম তখন সে তার সময় ব্যয় করতো সাহিত্য চর্চায়। আমাদের স্কুল ম্যাগাজিন বের হতো তারই নেতৃত্বে। আমাদের স্কুলের দেয়াল পত্রিকা বের হতো শাহরিয়ারের নেতৃত্বে। সেখানে তার কবিতা থাকতো প্রতিটি সংখ্যায়। সে ইত্তেফাতের খেলাঘরের একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলো।
শাহরিয়ার ছিলো আমার ঘনিষ্ট বন্ধু। আমার মেট্রিক পরীক্ষা দেয়ার আগে জুবিলী স্কুলের পূর্বদিকে যে সুনামগঞ্জের একটা বড় অংশ আছে আমি তা জানতাম না। আমি প্রথম হাসননগর গিয়েছিলাম শাহরিয়ার বাসায়।
সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে আই. এ পাশ করে সে চলে যায় করাচি বিশ^বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই সে পড়াশুনা শেষ করে পাকিস্তানের বিখ্যাত পত্রিকা ডনে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেয় এবং সেখান থেকে দেশে এসে দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেয়ার পরবর্তীতে সে ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক, জাতীয় প্রেসক্লাবের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৭৯ ইংরেজিতে আমি সংসদ সদস্য আর শাহরিয়ার তখন ইত্তেফাকের পার্লামেন্ট প্রতিনিধি। প্রতিদিন আমাদের তখন দেখা হতো, আড্ডা হতো। সে ছিলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন প্রথম সারির সাংবাদিক। তার আদর্শ থেকে তাকে কোনো লোভ উচ্চাকাক্সক্ষা তাকে কোনদিন পথচ্যুত করতে পারেনি। তার মতো সৎ দুর্নীতিমুক্ত একজন সাংবাদিক আজকের সাংবাদিকতা জগতে বিরল।
এখানে উল্লেখ্য যে হাসান শাহরিয়ার পিতা মরহুম মকবুল হুসেন চৌধুরী ছিলেন একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক এবং তার ভাই হুসেন তৌফিক চৌধুরীও সারাজীবন সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। আমরা একজন বন্ধু হারিয়েছি আর জাতি হারিয়েছে তার একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান।
আল্লাহ তাকে বেহেস্ত প্রদান করুন। আজকের দিনে এই আমার প্রার্থনা।
লেখক: সাবেক সংসদ সদস্য।