তিন কিলোমিটার ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ হবে পাকাসড়ক

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরের সর্ববৃহ নলুয়া হাওরে এবার বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নলুয়া হাওর পোল্ডার ১ এর আওতাধীন তিন কিলোমিটার পর্যন্ত স্থায়ী সড়ক নির্মাণের লক্ষে গত শুক্রবার জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিনে প্রস্তাবিত সড়ক এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আগামী বোরো ফসল রক্ষায় হাওরের বেড়িবাঁধ পূর্ণ সংস্কার/সংস্কার ও নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (সিআইসি) গঠনের পূর্বে জরিপ কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ।
নলুয়া হাওরের পশ্চিম অংশে কামারখালী নদীর তীরবর্তী জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের তেলিকোণা থেকে চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের দাসগাঁও পর্যন্ত বাঁধের ৪টি প্রকল্প রয়েছে। তেলিকোনা থেকে দাসনাগাঁও পর্যন্ত দূরত্ব তিন কিলোমিটার। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এই প্রথমবারের মতো এই তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধকে সড়ক রূপে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে জরিপ কাজ করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত বছর বাঁধের প্রকল্পগুলোতে ভালো কাজ হওয়াতে এবার তেমন ক্ষতি হয়নি। যে কারণে ওই এলাকায় টেকসইভাবে কাজ করতে স্থায়ী সড়ক তৈরী করা সম্ভব। বাঁধ যখন সড়কে পরিণত হবে তখন একদিকে যেমন হাওরের ফসল সুরক্ষায় সহায়ক হবে, তেমনি জনসাধারণের যাতায়াতে সুবিধা হবে।
দাসনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের রনবীর কান্ত দাস নান্টু বলেন, দাসনাগাঁও থেকে তিলোকোণা পর্যন্ত বেড়িবাঁধটি সড়ক হলে হাওরের ফসলের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি এটি সড়ক হলে দুই ইউনিয়ন অর্থাৎ চিলাউড়া ও কলকলিয়া ইউনিয়নের লোকজনের যাতায়াতে নতুন করে সুবিধা মিলবে।
জগন্নাথপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, আগামী বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের সংস্কার ও নির্মাণ কাজের জন্য আমরা মাঠে জরিপ কাজ শুরু করেছি। জরিপের পর প্রকল্প কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, নলুয়া হাওরের তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সড়কে রূপান্তরিত করতে ইউএনও স্যারের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী জরিপ কাজ করছি আমরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় এবং স্থানীয় এলাকাবাসির যাতায়াতের সুবিধার জন্য বেড়িবাঁধকে পাকা সড়ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবার। তবে হাওরের জীব বৈচিত্র্যের কোন ক্ষতি হবে কিনা এবিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি।