তীব্র শীতে বাড়ছে রোগ বালাই/ ঝুঁকিতে বৃদ্ধ ও শিশুরা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
‘মাঘের শীতে বাঘের গায়, পৌষের শীতে মইষের গায়’ প্রচলিত এই গ্রামীণ প্রবচনে বুঝানো হচ্ছে মাঘের শীতে বাঘ আর পৌষের শীতে মহিষ পর্যন্ত কাঁপে। এবার শীত ঋতুর প্রারম্ভিক মাস পৌষে কাঁপছে উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের লোকজন। বিশেষ করে গত কয়েকদিন যাবৎ বয়ে চলা শ্বৈত প্রবাহে কাবু জনজীবন। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শৈত প্রবাহ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে তীব্র শীতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ বালাই। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, চর্মরোগ সহ শীতকালীন নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে হাসপাতালে ভীড় বাড়ছে রোগীদের। ওয়ার্ডে পা ফেলারও জায়গা নেই।
শনিবার সরেজমিনে জামালগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রোগীদের ভীড় বেশি দেখা গেছে। ৩টি রুমে একাধিক ডাক্তাররা বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ডাক্তারদের রুমের সামনে দীর্ঘ লাইন। রুমের ভিতরে ও কোথাও ফাঁকা নেই। অনেক রোগী বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
এ সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঠান্ডাজনিত রোগীই তুলনামূলক বেশী। ঠান্ডা কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ পরিমাণে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে হাসপাতালে।
উপজেলার লালপুর গ্রামের বাসিন্দা শামছুল আলম (৬০) বলেন, কয়েকদিন ধরে কাশি হচ্ছে। কাশের কারণে রাতে ঘুম হয় না। নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। এ কারণে হাসপাতালে এসেছি। দীর্ঘ লাইনের কারণে ১ ঘন্টা যাবত অপেক্ষা করছি।
ঠান্ডাজনিত কারণে দীর্ঘদিন যাবত ভোগছে নাজমা বেগমের ১২ বছরের মেয়ে তাছলিমা। শীত আসলেই শ^াসকষ্ট শুরু হয়। প্রতি শীতেই ডাক্তার দেখান। মেয়েকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, মেয়েটা অনেকদিন ধরে ঠান্ডায় ভুগছে। শীত বাড়ায় তার কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। ফার্মেসী থেকে ঔষধ খাইয়ে কমেনি, তাই হাসপাতালে নিয়ে এলাম।
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল বাতেন বলেন, তীব্র শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তার নার্সদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ^াসকষ্ট, অ্যাজমায় আক্রান্ত হচ্ছেন। শীত, কুয়াশা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, বায়ু দূষণে এসব রোগ বেড়ে যায়। এ সময় অবশ্যই সবাইকে মাস্ক পড়ে চলাচল করা উচিত।
তিনি বলেন, শিশুদের এ ধরনের রোগ থেকে রক্ষা করতে সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে যেনো ঠান্ডা না লাগে। ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি গরম চা, আদা চা খেতে হবে।