তৃতীয় পক্ষের অপচেষ্টাকে সফল হতে দেওয়া যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ইমাম মোয়াজ্জিন পরিষদের আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, কুমিল্লায় কুরআনের অবমাননা কোনো মুসলমান করে নাই, কোনো হিন্দুও করে নাই, নিশ্চয়ই তৃতীয় পক্ষের কেউ হীন উদ্দেশ্যে এই অপচেষ্টা করেছে। এরা দাঙ্গা লাগাতে চায়। বক্তারা বলেন, সে এলাকার হিন্দু ভাইয়েদেরও অবহেলা রয়েছে, তারা উপাসনা করবেন, উৎসব করবেন আর দেবীকে একা রেখে চলে গেলেন, কে কুরআন শরীফ রেখে গেলো কেউ দেখলেন না এটা আশ্চর্যের বিষয়। আনসারদের পাহারাদার হিসেবে রাখা হয়, তারা কি করেছিলো? এখানে তাদেরও অবহেলা রয়েছে, দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তারা।
কুমিল্লার নানুয়া দিঘীরপাড় পূজা মণ্ডপে মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। রবিবার দুপুরে জেলা ইমাম মোয়াজ্জিন পরিষদের আয়োজনে শহরের আলফাত স্কয়ারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাওলানা মুজিবুর রহমান বলেন, কুমিল্লায় একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনা স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা নয়। আমাদের আল্লাহকে দেখার সুযোগ নেই পৃথিবীতে। কিন্তু আল্লাহর কালামকে আমরা দেখতে পাই। আল্লাহর কালাম আমাদের সামনে। আমরা বিশ্বাস করি এটা মহান আল্লাহর কালাম। আমরা প্রাণের চেয়েও এ কালামকে শ্রদ্ধা করি। এই কালামের অবমাননা মুসলমান কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। এই কালামকে আমরা মাথায় রাখি। এই কালাম মূর্তির পায়ের নিচে থাকলে কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর প্রতিবাদ করতে এখানে সমবেত হয়েছি।
দরগাপুর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শায়খ নুরুল ইসলাম খাঁন বলেন, যারা কুরআন অবমাননাকারীর শাস্তি চেয়ে প্রতিবাদ করেছে, তাদের অনেককে সরকার গ্রেফতার করেছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি এসব কুরআন প্রেমিদেরকে নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দেওয়া হোক।
জেলা ইমাম মোয়াজ্জিম পরিষদের উপদেষ্টা হাফিজ আতাউর রহমান লস্কর বলেন, কুমিল্লায় কুরআনের অবমাননা কোনো মুসলমান করে নাই, কোনো হিন্দুও করে নাই, নিশ্চয়ই কোনো তৃতীয় পক্ষ এই কাজ করেছে। আমি আবদার করবো মাননীয় সরকার বাহাদুরের কাছে, কে করেছে, কেনো করলো এটা তদন্ত করে বের করা হোক।
জেলা ইমাম মোয়াজ্জিম পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৩০ লক্ষ মানুষের শাহাদাতের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নষ্ট করবার জন্যে একটি কুচক্রি মহল প্রতিনিয়ত পায়তারা করে যাচ্ছে, পূজা ম-পে কুরআন নিয়ে রাখছে কারা? ধর্মপ্রাণ মানুষ তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেনো তিনি অন্যের ধর্ম গ্রন্থকে অবমাননা করবেন না, এই দেশে নাস্তিক মুরতাদরাও আছে। তারা মুসলমান ও হিন্দুদের মাঝে দাঙ্গা লাগানোর জন্য সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। সরকারের কাছে দাবি জানাই এসব নাস্তিকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
জেলা ইমাম মোয়াজ্জিন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রকিবের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল বছির, সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রকিব আহমদ, সদস্য মাওলানা রুকুনুদ্দিন প্রমুখ।