দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বানের পানিতে ভেসে গেল কোটি টাকার মাছ

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
মৎস্য খামারে প্রায় কোটি টাকার উপর বিনিয়োগ করেছিলেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাফিউল ইসলাম (সুস্বাদ)। কয়েক মাস পরেই খামার থেকে লাভবান হবেন বলে স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু চলমান পাহাড়ি ঢলের আকস্মিক বন্যায় তার সে স্বপ্ন ভেসে গেছে। বানের পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সবকিছু হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা রায়পুর গ্রামের রফিকুল অসলাম রকুর ছেলে সাফিউল ইসলাম (সুস্বাদ), পাগলার দক্ষিণ কাদিপুর এলাকার মহাসিং নদীর মোড়ে প্রায় ১০ একর জমিতে দাদীমা নামে একটি মৎস্য খামার স্থাপন করেন। এতে তিনি রুই, মৃগেল, কাতলা, কার্প, ব্রিগেড, সরপুটি, কাটার, বাউস মাছের পোনা ও ২ কেজি ওজনের বড় মাছ সহ প্রায় কোটি টাকার উপরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন। কয়েক মাস পর মাছ বিক্রি করার কথা ছিল। তাতে অনেক টাকা লাভ হতো তার। কিন্তু সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যার পানি ফিশারিতে ঢুকে পড়ে। এতে করে সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ফিশারির চতুর্দিকে জাল ও পাটিবাঁধ দিয়ে মাছ আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেন। এতে উপকরণ এবং শ্রমিক খরচসহ আরও প্রায় লাখ টাকা ব্যয় হয় তার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পানির তোড়ে পাটিবাঁধ ভেঙ্গে পানি ভেতরে ঢুকে পড়ায় সব মাছ ভেসে যায়। সব হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।
খামারের মালিক সাফিউল ইসলাম সুস্বাদ বলেন, স্বপ্ন নিয়েই খামার করেছিলাম। খামারে প্রায় কোটি টাকার উপরে বিনিয়োগ করেছিলাম। আশা ছিল মাছ বিক্রি হলে অর্ধকোটি টাকা আয় হবে। কিন্তু বন্যায় আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। এ ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেব তা ভেবে পাচ্ছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। সরকারের কাছে আমার দাবি আমি সহ আমার মত যারা সহায়-সম্বল হারিয়েছে তাদের দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারের তালিকায় নাম পাঠিয়ে দেব। সরকারি কোন সহায়তা আসলে অবশ্যই জানানো হবে।