দক্ষিণ সুনামগঞ্জে শুরুই হয়নি ৯ টি বাঁধের কাজ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৫০টি বাঁধের মধ্যে এখনও শুরুই হয়নি ২৫, ২৬, ৪০, ৭, ৫, ৪, ৩, ৮ ও ৩৯ নং বাঁধের কাজ। যার ফলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর, সাংহাই হাওর, কাচিভাঙ্গাঁ হাওর, জামখলা হাওর ও খাই হাওরের কৃষকদের ২২ হাজার হেক্টর জমির একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দেখার হাওরের হলদির খাড়া, উতারিয়া, পাথালিয়া, জামখলা হাওরের জামখলা বাঁধ, খাই হাওরের রাঙ্গামাটির কিছু অংশের বাঁধের কাজ শুরু হলেও পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ১৮ টি পিআইসির মধ্যে দু একটি ছাড়া সবগুলোতে মাত্র ধুমড়া পরিস্কার করার কাজ শুরু হয়েছে। মাটি কাটা এখন শুরু হয়নি। অনেক পিআইসির সাথে আলাপকালে জানা যায়, কেউ কেউ এস্কেভেটর যন্ত্রের অপেক্ষায় আছেন, আবার কারও কারও বাঁধের পরিমাপ হয়নি, কারও কারও মেশিন নষ্ট।
পশ্চিম বীরগাঁও ৭টি পিআইসির সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি। এছাড়া ডিজিটাল সাইনবোর্ড দিলেও সাইনবোর্ডে জায়গার দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা লেখা না থাকায় কাজ করতে ও যারা কাজ পরিদর্শনে যান তারা কি পরিমাণ কাজ হবে তা বুঝতে পারেন না।
পিআইসি’র মাধ্যমে যে কাজগুলো হচ্ছে তা বর্তমানে অগোছালো অবস্থায় রয়েছে। ড্রেসিং ও দুরমুজ করা হচ্ছে না অধিকাংশ বাঁধেই। পাউবো’র নিয়ম অনুযায়ী যে মাপের ভিত্তিতে কাজ করার কথা ছিল সে অনুযায়ী কিছু কিছু পিআইসি কাজ করলেও অধিকাংশ পিআইসি তা না করে বাঁধের একেবারে নিকট থেকেই বড় বড় গর্ত করে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে বাঁধে দিচ্ছে যা বাঁধের জন্য বিরাট হুমকি স্বরূপ।
উপজেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার চলতি বছর নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজের প্রাক্কালন করতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরুর কথা ২৩ ডিসেম্বর হলেও কাজ শুরু হয় জানুয়ারীর প্রথম দিকে। এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়। ফলে এখন পর্যন্ত কাজে গতি না আসায় এবং অধিকাংশ বাঁধে কাজ শুরু না হওয়ায় আদৌ কাজ সময়মত শেষ হবে কি না এ নিয়ে চরম হতাশা আর শঙ্কায় রয়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রায় পৌনে এক লাখ কৃষক।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও ফারুক আল মামুন জানান, উপজেলার ৫০ টি পিআইসির মধ্যে ৪৩ টির কাজ বুঝিয়ে দিলেও কাজের অগ্রগতি খুবই কম।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন্নাহার শাম্মী জানান, কাজের সময়সীমা অনুযায়ী দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বার বার তদারকি করছি। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হয়ে যাবে। যারা এখনও কাজ শুরু করেনি তাদের বিষয়টা আমি খতিয়ে দেখব।