দর্শনীর বিনিময়ে কুস্তি খেলা দেখা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার
ভাটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলা নিয়ে মেতে উঠেছে পুরো সুনামগঞ্জবাসী। শহর থেকে গ্রাম মানুষের মুখে মুখে শুধু কুস্তির আলোচনা। গ্রাম্য এই জনপ্রিয় খেলাকে শহরে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দুই দিনব্যাপি কুস্তি খেলার আয়োজন করা হয়েছে জেলা স্টেডিয়ামে। খেলায় অংশ নিবে ৫ উপজেলার বাছাই করা কুস্তিগীররা। এ নিয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে জেলায়। খেলার আয়োজনে দর্শনীর ব্যবস্থা রাখতে বিপত্তি কারো কারো। ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এতো বড় আয়োজন করা আর্থিক সংস্থান নেই ক্রীড়া সংস্থার। স্পন্সরও পাওয়া যায় নি। এজন্য টিকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্টেডিয়াম মাঠের গ্যালারি ওই দুই দিনের জন্য লিজও দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনাও আছে। কুস্তি ফেডারেশন নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে টিকেট ব্যবস্থা বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গণমাধ্যমকর্মী দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী লিখেছেন, আমি টিকিট করে কুস্তি খেলা দেখার পক্ষে। কারণ যারা কুস্তি খেলে তাদের খেলা মানুষ টিকিট করে দেখছে, ব্যাপারটা দারুণ। কুস্তিগীরদের জন্য সম্মানের অন্তত আমি মনে করি। কারণ আমার নাটক মানুষ টিকিট করে দেখলে আমাদের গর্ব হয়, সম্মান বোধ করি এটা ভেবে আমাদের নাটক মানুষ টিকিট করে দেখছে। তবে টিকিটের মূল্য অবশই ১০-২০ টাকার বেশি হওয়া কোন মতেই ঠিক হবে না। টিকেট থেকে আয়ের কিছু অংশ কুস্তিগীরদের দেবার প্রস্তাবও জানান তিনি।
একই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে আবার পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য আছে। বিশিষ্ট গণমাধ্যম কর্মী উজ্জ্বল মেহেদী লিখেছেন” গণবিনোদনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বাণিজ্য বসত করবে। তারপর খেলা থেকে টাকা রোজগার। ‘মাল’ তখন ভালোবাসার বদলে টাকায় বিক্রি হবে। প্রীতি থেকে অপ্রীতি। তখন আরেকবার প্রমাণ হবে, অর্থই অনর্থের মূল।
জেলা কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী বললেন, কুস্তি সাধারণ জনগণের খেলা, সাধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। এই খেলায় টিকেট ব্যবস্থা কোনো ভাবেই আমরা চাই না। আমার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ চাপ দিচ্ছে আমরা টিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য। ফেসবুকেও সবাই প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমি একজনও এমন মানুষ পাইনি যে বলেছে টিকিট দিয়ে খেলা চায়। সবাই জানাচ্ছে টিকেট বহাল থাকলে তারা খেলা দেখতে যাবে না। এমন অবস্থায় আমরা প্রশাসনের কাছে টিকিট ব্যবস্থা বাতিলের আবেদন জানিয়েছি। যদি তারা টিকেট ব্যবস্থা বহাল রাখেন। তাহলে আমাদের সংগঠনের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বললেন, সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর ও শান্তিগঞ্জের কুস্তিগীররা ২৯ ও ৩০ অক্টোবর সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে উত্তাপ ছড়াবেন। খেলা আয়োজনে বহু টাকা প্রয়োজন। ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে সেটি বহন করা কঠিন। কোন স্পন্সরও পাওয়া যায় নি। এজন্য স্টেডিয়াম গ্যালারি লিজ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরে এই আয়োজন করতে স্পন্সর খোঁজা হবে। টিকিট ব্যবস্থাও বাতিলের চেষ্টা করা হবে।
কুস্তি প্রতিযোগিতার আহবায়ক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বললেন, কুস্তি সুনামগঞ্জের একটি জনপ্রিয় খেলা। এই খেলা যদি প্রত্যেক বছর আয়োজন করা হয় তাহলে এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। এই আয়োজন করতে যে খরচ হবে সেটা ক্রীড়া সংস্থা বা কুস্তি ফেডারেশনের কাছে নেই। তাই কমিটির সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামমাত্র ৫০ টাকা মূল্যে টিকেট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি এই খরচের টাকা থাকতো তাহলে আমরা টিকিট ব্যবস্থা রাখতাম না।