- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

দলীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষলেন মুকুট

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পরিষদের ১০ সদস্যের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি বৃহস্পতিবার ছিল জেলায় আলোচনার বিষয়। পরিষদের ১০ সদস্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বুধবার লিখিত দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সামনে জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন, তিনি আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী, একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি’র পদ প্রত্যাশী। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তায় ভীত দলীয় প্রতিপক্ষ, কয়েকজন জেলা পরিষদ সদস্যকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে বুধবার ১০ জেলা পরিষদ সদস্য আবেদন করেছেন। আবেদনে, জেলা পরিষদের সদস্য সৈয়দ তারিখ হাসান দাউদ, মো. আব্দুস সহিদ মুহিত, আবু আব্দুল্লাহ চৌধুরী, মাহতাব উল হাসান, জহিরুল ইসলাম, মোছাম্মৎ নূরুন্নাহার, মো. নাজমুল হক, ফৌজি আরা বেগম, সাবিনা সুলতানা ও মো. আব্দুল আজাদ স্বাক্ষর করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট সদস্যগণকে পরিষদের কার্যবিবরণি না দিয়ে সাদা খাতায় স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। চেয়ারম্যান এডিপির বরাদ্দ নিজ ইচ্ছামত একক সিদ্ধান্তে দিয়ে আসছেন। প্রতি অর্থ বছরে নামমাত্র প্রকল্প মাত্র তিন থেকে ৬ লাখ টাকা সদস্যগণকে বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। বিধান থাকা সত্ত্বেও স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন হয় নি। গত নয় সেপ্টেম্বর ভার্চুয়াল সভায় ৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন, সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যদের অনুপস্থিতে এডিপি ও রাজস্ব প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে, এটি আইনবহির্ভুত দাবি করেন এই ১০ সদস্য। একইসঙ্গে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব এডিপি বরাদ্দ সুষ্ঠু ও জনস্বার্থে গ্রহণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয় আবেদনে।
এদিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে এই নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হুদা মুকুট বলেন, গেল ৫ বছরে কোন সভায় কোন সদস্য এমন অভিযোগ উত্থাপন করেন নি, আমি মনে করছি, আমার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থানে ঈর্ষান্নিত দলীয় প্রতিপক্ষের ইন্ধন আছে এই মিথ্যাচাওে, জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে ব্যবহার করে তারা আমাকে বিব্রত করতে চায়, আগামী ডিসেম্বরে জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ, প্রায় ৫ বছর একসঙ্গে কাজ করলাম কোন অভিযোগ পেল না তারা, এই সময়ে এসে এধরণের অভিযোগ নিসন্দেহে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, নাম উল্লেখ না করে একজন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নেপথ্যে এই ইস্যুতে সক্রিয় দাবি করেন তিনি। সিলেটে তাদেরকে (জেলা পরিষদের এই সদস্যদের) নিয়ে সভাও করেছেন দলীয় প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক নেতারা বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, ১০ জেলা পরিষদ সদস্য সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেন নি। আমার দায়িত্ব পালনকালে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে কোন অনিয়ম হয় নি। কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে যে কোন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারেন, আমি তাদের সহযোগিতা করবো।
উপস্থিত জেলা পরিষদ সদস্য জুবায়ের পাশা হিমুও বললেন, আনিত অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বলে মন্তব্য করেন তিনিও।

  • [১]