দলের বিশৃঙ্খলায় বেকায়দায় আ.লীগ প্রার্থী

বিশেষ প্রতিনিধি
দলের বিশৃঙ্খলায় বেকায়দায় সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। আগামী দুই নভেম্বর এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী। উপজেলা জুড়ে জমজমাট ভোটের প্রচারণায় বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার মধ্যে বেশিরভাগ নেতাকেই দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় এখনো দেখা যায় নি। পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের নির্বাচনী আসন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বড় উপজেলা জগন্নাথপুর। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনেরও গ্রামের বাড়ি। প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের এলাকায় দলের এমন অবস্থার জন্য উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দ পরস্পরকে দোষলেন।
আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এই উপজেলায় দলীয় কোন্দলে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে এর আগেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকমল হোসেন প্রায় ২৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী দলীয় নেতা মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা ১৪ হাজার ভোট পান। বিএনপির আতাউর রহমান প্রায় ২৯ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।
এবারও আকমল-মুক্তা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাঁদের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে আছেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দ তালহা আলম ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী।
প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলার ৭০ ভাগ ভোটার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হওয়ায় এখানকার নির্বাচনের দিকে নজর থাকে জেলাবাসীর।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দলীয় প্রার্থী আকমল হোসেন বললেন, আমি চেষ্টা করছি দলের কর্মীদের নৌকার পক্ষে একত্রিত করার। উপজেলার চেয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা সাড়া দিচ্ছেন বেশি।
মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা জানালেন, শুরু থেকেই তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা রয়েছেন।
স্থানীয় একজন জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম কর্মী বললেন, আওয়ামী লীগের দুর্গে দলীয় বিশৃঙ্খলায় আওয়ামী লীগ মনোনীতদের পরাজয় হচ্ছে। এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনেও এমনটা হয়েছে। আওয়ামী লীগে-আওয়ামী লীগে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি সমর্থকরা জয়ী হয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বললেন, দলের মনোনয়ন চাওয়ার জন্য পাঁচজনের নাম পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে আমার নামও ছিল। আমি শুরু থেকেই দলের প্রার্থীর প্রচারণায় আছি। অন্য তিনজনের মধ্যে হারুন রাশিদ একদিন দলীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন। মিন্টু রঞ্জন ধর ও নুরুল ইসলামকে দেখা যায় নি। আমরা তাঁদেরকে কাজে নামানোর চেষ্টা করছি। দলের বিশৃঙ্খলার জন্য দায়িত্বশীল অনেকেই দায়ী মন্তব্য করে এই নেতা বললেন, স্থানীয় নির্বাচনে এর আগে যারা দলের প্রার্থীর বিরোধীতা করেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে, তাদের তালিকা করে জেলা কমিটিকে পাঠানো হয়েছে। কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তাদের সাহস বেড়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান দেশের বাইরে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সহকারী হাসনাত হোসাইন বললেন, জগন্নাথপুরে দলীয় দায়িত্বশীল অনেকেই প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা ইউনিয়নে ইউনিয়নে যাচ্ছি, প্রার্থীর অবস্থাও ক্রমে ভালো হচ্ছে।
দলের হ-য-ব-ল অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন বললেন, চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিকল্প নেই জানিয়ে ৫০ জনকে ম্যাসেজ পাঠিয়েছি। দায়িত্বশীল চারজন ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। বলেছি নিজেদের মধ্যে যেন দূরত্ব তৈরি না হয় সেভাবে প্রচারণা চালাতে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বললেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় দলে শৃঙ্খলা নেই, যে যার মত চলে। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। উপজেলা কমিটির পাঠানো শৃঙ্খলা ভঙ্গ কারীদের তালিকায় সুপারিশ করে সব সময়ই তারা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন জানালেন তিনি।