‘দাঁড়াও পথিক’এ উঠে এসেছে গণহত্যার মর্মস্পর্শি কাহিনী

সাইদুর রহমান আসাদ
একাত্তরে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বড় দুটি গণহত্যা সংগঠিত হয়। একটি জগন্নাথপুরের শ্রিরামশিতে ও অপরটি দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁওয়ে। আর এই নৈনগাঁওয়ে গণহত্যার উপর মঞ্চস্থ হয়েছে গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটারের দাঁড়াও পথিক। শুক্রবার নৈনগাঁওয়ে সুরমা নদীর পাড়ে খোলা মাঠে এই গণহত্যার উপর এই নাটক পরিবেশন করা হয়।
সুরমা নদী নৌকা দিয়ে পাড় হচ্ছেন কয়েকজন তরুণ। তাদেরকে নৌকার মাঝি হাসনরাজা, দুর্বিনশাহ, রাধারমন দত্ত, আব্দুল করিমসহ সুনামগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য শুনাচ্ছেন। গান গেয়ে শুনাচ্ছেন। গল্প করতে করতে তারা তীরে আসে। হঠাৎ একটি ছায়া মুর্তির আর্ভিভাব। ছায়া মুর্তির কন্ঠ শুনে সবাই ভয় পেয়ে যায়। একসময় ছায়া মুর্তি নিজের পরিচয় দেয়। বলে সে একাত্তরের গণহত্যার শিকার একজন।
তরুণরা তারা ছায়া মুর্তির কাছে সুনামগঞ্জের মুক্তির কথা শুনতে চায়। ছায়া মুক্তি একাত্তরের লড়াই সংগ্রামের গল্প বলা শুরু করে।
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই সুনামগঞ্জের নৈনগাঁও। সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস। ধান, গান আর মাছে ভরপুর এই এলাকায় হঠাৎ করে পাক্তিস্তানি সেনারা প্রবেশ করে। গ্রামের হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। মেয়েদের তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। একসঙ্গে ২৪ জন মানুষকে দাঁড় করিয়ে হত্যা করে।
পুরো নদীর পাড়ে খোলা মঞ্চে নাট্যকর্মীরা ফুটিয়ে তুলে খালে- বিলে নিরস্ত্র বাঙালিদের পাক্তিস্তানি বাহিনীদের প্রতিরোধের কাহিনী। সুরমা নদীতে লঞ্চে করে পাক্তিস্তানী বাহিনীর নৈনগাঁওয়ে আগমনও বাদ যায়নি। এরকম দৃশ্য দেখে নাটকটি দেখেতে আসা মানুষরা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত লড়াই সংগ্রাম নিজ চোখে আজ প্রত্যক্ষ করেছে তারা।
আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর রচনা ও নির্দেশনা এবং দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র ও দেওয়ান গিয়াস চৌধুরীর সহযোগী নিদেশনায় নাটকটিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রায় ৬০ জন নাট্যশিল্পী অভিনয় করেন।
নৈনগাঁওয়ে যে গণগত্যা সংগঠিত হয়েছিলো বর্তমান প্রজন্মের সামনে এই চিত্র তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামছুল আবেদীন।