দিরাইয়ে শিশু ধর্ষণ/ ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী

দিরাই সংবাদদাতা
দিরাই পৌর শহরের উলুকান্দি গ্রামের ১০ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল আহাদ (৪০) দুইদিন ধরে পলাতক। নির্যাতনের শিকার শিশু (১০) সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে চলছে মামলার প্রস্তুতি। এদিকে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে চলছে প্রতিবাদ। ঘটনার দিন থেকে একাধিকবার পুলিশ ভিকটিমের বাড়ি পরিদর্শন করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে আছে। অভিযুক্তের চূড়ান্ত বিচার চাইছে কিশোরী মা বাবা আত্মীয় স্বজনসহ সকলে। নির্যাতিতা শিশুর মা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মেয়েটা আমার কাছে সিঙ্গারা খাওয়ার জন্য ১০ টাকা চায়। আমি তার বাবার কাছে টাকা আনার জন্য বলি। সেসময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছিলো। এরপর বৃষ্টিতে মেয়েটা কাঁপতে কাঁপতে ঘরে আসে। এসেই কেঁদে কেঁদে আমাকে বিস্তারিত ঘটনা বলে। তিনি বলেন, মেয়েটির মুখে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে রাখা বালুর স্তুপে নিয়ে যায়। ওখানেই সে নির্যাতনের স্বীকার হয়। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আইন আদালত বুঝি না। মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তায় আছি সে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। আজকেই (শনিবার) মামলা করার জন্য থানায় যাবো।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল আহাদ একাধিক বিয়ে করেছেন। ৬ সন্তানের বাবা সে। দুইজন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ইতিমধ্যে।
ব্র্যাক দিরাইয়ের পরিচালক বিলকিছ আক্তার বলেন, ব্র্যাকের নারী ও শিশু নির্যাতনের সাপোর্ট টিম ভিকটিমকে আইনী সহায়তা প্রদান করবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা জরুরী কাজে দিরাইয়ের বাইরে থাকায় ভিকটিম ও তার পরিবারের পাশে যেতে বিলম্ব হয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার আবুল কাশেম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে দোষী হয়ে থাকে তবে তার শাস্তি হোক।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলেও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।