দিরাইয়ে সম্মেলনে আ.লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। চেয়ার মাথায় উঠিয়ে ইটপাটকেলের আঘাত থেকে রক্ষা পান মঞ্চে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা। সোমবার বেলা একটায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর প্রায় একঘণ্টা সম্মেলনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উদ্য্যোগে আশপাশের এলাকা থেকে নেতা কর্মীদের সমাবেশ স্থলে নিয়ে আসা হয়। বেলা দুই টার পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আবার বক্তব্য শুরু করেন।
বেলা পৌঁনে একটায় দিরাই বিএডিসি মাঠের উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন মঞ্চে আসেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমেদ হোসেন ও কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুস সামাদ ডন। তাদের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা আক্তার খানম প্রমুখ মঞ্চে ওঠেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত শেষ করা হয়। এরমধ্যেই মাঠের উত্তর গেট দিয়ে সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ মিয়ার নেতৃত্বে তার সমর্থকদের মিছিল ঢুকে। মিছিলটি মঞ্চের কাছাকাছি আসতে থাকে। মঞ্চের আশপাশে থাকা নেতা কর্মীরা এসময় মিছিলকারীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষে ধাক্কাধাক্কি লাগে। চেয়ার ছুড়াছুড়ি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
মঞ্চ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে একপক্ষ। এসময় মঞ্চে থাকা নেতৃবৃন্দ চেয়ার মাথায় ওঠিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। আধাঘণ্টারও বেশি সময় সংঘর্ষ চলাকালে আহত হয়েছেন, দলীয় কর্মী রমিজ উদ্দিন, এটিএম মাসুম প্রদীপ, সাজু রায়, কামরুল ইসলাম, মোশারফ মিয়া, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সেন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইফতি বখ্ত, রতিশ দাসসহ কমপক্ষে ২০ জন নেতা কর্মী। গুরুতর আহত রতিশ দাশকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নির্বাচনী এলাকা দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তবে গেল পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীতাকে ঘিরে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, অ্যাড. সোহেল আহমদ ও প্রদীপ রায়। অন্য গ্রুপে রয়েছেন সাবেক বিগত পৌর নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ মিয়া ও যুবলীগের উপজেলা সভাপতি রঞ্জন রায় প্রমুখ।
সংঘর্ষের ঘটনায় পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন দুইপক্ষের নেতৃবৃন্দ।
মোশরাফ মিয়া বলেছেন, তার সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ মিছিল সম্মেলনস্থলে পৌঁছানোর পর অপরপক্ষের নেতা কর্মীরা হামলা করেছে।
প্রদীপ রায় বলেছেন, প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ মঞ্চে ওঠার পর মোশারফ মিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়য়েতের কর্মীরা মিছিল করে এসে মঞ্চ লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দলের কর্মীরা এসময় মানবঢাল তৈরি করে এবং মাথায় চেয়ার তুলে নেতাদের রক্ষা করেন। পুলিশের ভূমিকা এসময় দুর্বল ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাৎক্ষণিক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন গণ-মাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, মিছিল করে এসে যারা হামলা করেছে তারা আওয়ামী লীগের কেউ নয়। এরা বিএনপি জামায়াতের সমর্থক। তারা সম্মেলন প- করতে চায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বললেন, সম্মেলনস্থলে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।