দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় সমান/ বেশিরভাগ প্রার্থী ব্যবসায়ী

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪৬ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন প্রার্থী আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। প্রার্থীরা পেশা হিসেবে কৃষি, চাকুরী, শিক্ষক, গৃহিণীৃ এবং আইনপেশা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন করছেন নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে আবার কয়েকজন নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য আত্মীয় স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান নিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর ব্যয়ই সমান। উভয়ে ৫ লক্ষ টাকা করে ব্যয় করবেন।
নির্বাচনী হলফনামায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. খায়রুল কবির রুমেন (ঘোড়া) আয়ের উৎস হিসেবে আইন পেশা উল্লেখ করেছেন। নিজ আয় থেকে তিনি প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং আত্মীয় স্বজন ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির নিকট থেকে দান উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট (মোটরসাইকেল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫ লক্ষ টাকা।
এদিকে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী মো. এনামুল হক (ফ্যান) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৯০ হাজার টাকা। চন্দন খান (তালা) ব্যবসা ও কৃষি খাত থেকে ৯৬ হাজার টাকা এবং মো. ফেরদৌসুর রহমান (হাতি) কৃষি খাত থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৮০ হাজার টাকা।
২ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মো. আব্দুস সালাম (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। পরিতোষ সরকার (হাতি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৬০ হাজার টাকা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মো. মজিবুর রহমান (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা। মেহেদী হাসান উজ্জ্বল (টিউবওয়েল) কৃষি খাত থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৯৫ হাজার টাকা।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মো. আকতারুজ্জামান মিরাশ মিয়া (হাতি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৪০ হাজার টাকা। মো. মুহিবুর রহমান (টিউবওয়েল) কৃষি খাত থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। মো. হোসেন আলী (তালা) কৃষি খাত থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মো. মিছবাহ উদ্দিন (ঘুড়ি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। দ্বিপক তালুকদার (তালা) কৃষি খাত থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা। শাহানা আল আজাদ (টিউবওয়েল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন নিজের নগদ টাকা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার বা কর্জ ৭৩ হাজার টাকা।
৬ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মো. নাজমুল হক (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৬৬ হাজার টাকা। আব্দুল্লুাহ আল বাকী আজাদ (টিউবওয়েল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষিকাজ ও ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা। রায়হান মিয়া (হাতি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে টিকেন্দ্র চন্দ্র দাস (বক) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৬৩ হাজার টাকা। ব্রজলাল দাস (ঘুড়ি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষি। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে স্বেচ্ছা প্রণোদিত দান ৩০ হাজার টাকা।
বাদল চন্দ্র দাস (টিউবওয়েল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষি। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২০ হাজার টাকা। মো. জামান চৌধুরী (হাতি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষি। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৬০ হাজার টাকা। আব্দুছ সালাম (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৬০ হাজার টাকা।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মাহতাব উল হাসান (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা। মো. সিরাজ উদ্দিন (ঘুড়ি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষি। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৩০ হাজার টাকা। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার বা কর্জ ২০ হাজার এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। হারুন মিয়া (টিউবওয়েল) নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা।
৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে রুকনুজ্জামান (ঘুড়ি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা। মনিরুজ্জামান বারী (টিউবওয়েল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা।
১০ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে আব্দুল কাদির (হাতি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা।
মো. মনির উদ্দিন (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৩০ হাজার টাকা।
১১ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মো. রফিকুল ইসলাম (হাতি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৭০ হাজার টাকা। মো. আব্দুল খালেক (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষি। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন।
১২ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মো. আব্দুস সহিদ মুহিত (টিউবওয়েল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ১ লক্ষ টাকা। সাহেদ মিয়া (তালা) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা। আবুল খায়ের (ঘুড়ি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন চাকুরী। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার বা কর্জ বাবদ ৪০ হাজার টাকা এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ১০ হাজার টাকা।
এক নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা সদস্য পদে সেলিনা বেগম (হরিণ) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষি। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। আইরিন (মাইক) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন কৃষি। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা। মোছা তাহমিনা বেগম (ফুটবল) হলফনামায় অর্থ প্রাপ্তি সম্ভাব্য উৎসসমূহ ও প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তবে সম্ভাব্য ব্যয়ের খাতে পোস্টার খরচ ১৫ হাজার টাকা, নির্বাচনী ক্যাম্প ১৫ হাজার টাকা, যাতায়াত খরচ ২০ হাজার টাকা, লিফলেট ৫ হাজার টাকা, ব্যানার ১৬ হাজার টাকা, বিবিধ ৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন।
দুই নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা সদস্য পদে সুলতানা রাজিয়া (হরিণ) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন শিক্ষকতা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৭০ হাজার টাকা। বীনা জয়নাল (টেবিল ঘড়ি) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন নিজস্ব তহবিল। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৫০ হাজার টাকা।
মোছাঃ খালেদা আক্তার (ফুটবল) একজন গৃহিণী। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ তিনি উল্লেখ করেছেন ১ লক্ষ টাকা।
তিন নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা সদস্য পদে মোছাঃ জুবিলী বেগম (মাইক) আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৭০ হাজার টাকা।
সানজিদা নাসরিন দিনা (ফুটবল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান। প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৯৫ হাজার টাকা। ফৌজি আরা বেগম (লাটিম) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন বেসরকারি চাকুরীজীবী। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৮০ হাজার টাকা।
চার নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা সদস্য পদে সেলিনা আক্তার (ফুটবল) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন শিক্ষকতা। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৩ লক্ষ টাকা।
মোছাঃ নুরুন্নাহার (হরিণ) আয়ের উৎস উল্লেখ করেছেন মৎস্য খামার। নিজ আয় থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৮০ হাজার টাকা।