দুদককে পুনরায় মামলা তদন্তের নির্দেশ আদালতের

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলা পুন: তদন্তের জন্য দদুককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ জাকিয়া সুলতানা এই আদেশ দেন।
বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে জেলার লাখ লাখ কৃষকের ফসল ডুবে যাবার পর জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল হক ২০১৭ সালের তিন আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ কর্মকর্তা, ফসলরক্ষা বাঁধের ৪৬ জন ঠিকাদার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) ৭৮ জনসহ ১৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সচিবের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল ৫০৫ (এ) ধারার অভিযোগ। আদালতের তৎকালীন বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের দুদকে প্রেরণের আদেশ দেন। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার তদন্ত শেষে এই মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। পরে বাদী ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজির পিটিশন দেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত বৃহস্পতিবার নারাজির পিটিশন গ্রহণ করে মামলাটি পূনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদীর পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন অ্যাড. শহীদুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাড. রবিউল লেইস রোকেস ও অ্যাড. রুহুল তুহিন।
মামলার বাদী অ্যাড. আব্দুল হক বলেন, আদালত আমার নারাজির পিটিশন গ্রহণ করেছেন এবং পুনরায় মামলাটি তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের পিপি অ্যাড. আইনুল ইসলাম বাবলু জানান, বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে হাওর দুর্নীতি নিয়ে দায়ের করা মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ।
প্রসঙ্গত. ২০১৭ সালে বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ায় সুনামগঞ্জে আগাম বন্যায় ১৫৪ টি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যায়। হাওরে ফসলহানির পর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর দুদক ওই বছরের ১৩ এপ্রিল হাওরের ফসলহানি ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের তদন্তে দুদকের পরিচালক বেলাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। এরপর ১৫ এপ্রিল পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিনকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ২ মে পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর-পূর্বাঞ্চল) মো. আবদুল হাই, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ফসলহানির ঘটনায় একই বছরের ৩০ মে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুদকের অনুসন্ধান শেষে ২ জুলাই মামলা হয়। মামলায় পাউবোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, ঠিকাদারদের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়ে। আর ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ঠিক সময়ে কাজ শেষ না করে কৃষকদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।
পরে এই বছরের ৩ আগস্ট আরেকটি মামলা করে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি। সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মামলাটি করেন ওই সময়ের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হক। এ মামলায় আসামি করা হয় ১৪০ জনকে। দুদকের মামলার ৬১ আসামি এই মামলারও আসামি ছিলেন। এর বাইরে ৭৮ জন হলেন ৩৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদককে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।