দুদু মিয়া হত্যাকান্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাইয়ে দিনমজুর দুদু মিয়া হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকার লোকজন।
শুক্রবার বেলা ৩টায় পৌরসভাস্থ থানা পয়েন্টে দিরাই প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জুম্মার নামাজের পর ভাঙ্গাডহর, ডাইয়ারগাঁও, ইসলামপুর, নরোত্তমপুর গ্রামের কয়েক শতাধিক লোকজন দিরাই বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বাজার প্রদক্ষিণ করে থানা পয়েন্টে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন নিহত দুদু মিয়ার ছেলে তানভির মিয়া, নিহতের ভাই নোয়াব মিয়া ও ছোয়াব মিয়া, আবদুল হক মিয়া, ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ, লালন মিয়া প্রমুখ।
জানা গেছে, গত ১ মে রাতে দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের মঙ্গলপুর গ্রামের বিলের একটি ডোবা থেকে মস্তক-বিহীন ৫ টুকরো অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সকালে এলাকার একটি পুকুর পাড় থেকে লাশের ক্ষতবিক্ষত মাথা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছিলেন টুকরো টুকরো লাশগুলো মঙ্গলপুর গ্রামের নিখোঁজ দুদু মিয়ার। কেননা, ২৯ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা থেকে নিখোঁজ ছিলেন দুদু মিয়া (৪১)। উদ্ধারকৃত লাশের পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখে সন্তানরা দুদু মিয়ার লাশ বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার সমঙ্গলপুর গ্রামের বিল থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ৬ টুকরো ভাসমান লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ ৬ জনকে আটক করে র‌্যাব-৯ সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। এরপর গভীর রাতে দিরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে আটককৃতদের। আটককৃতরা হলেন- ইসলামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাইয়ুমের স্ত্রী আল বাহার বেগম (৩৫), ভাঙ্গাডহর গ্রামের মৃত জলধর দাসের ছেলে সত্যরঞ্জন দাস (৫৫), নরোত্তমপুর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে নাসির উদ্দিন (৩৫), দাউদপুর গ্রামে মৃত তোয়াহিত মিয়ার ছেলের নাজমুল হুসাইন (৪৯), নরোত্তমপুর গ্রামের মুসলিম উল্লাহ’র ছেলে লুৎফর রহমান (৩৫) ও ভাঙ্গাডহর গ্রামের মকবুল আলীর ছেলে আ. মালেক (৩০)। আটককৃতরা জেলহাজতে রয়েছেন।
র‌্যাব-৯ সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার সিঞ্চন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- আটককৃত ৬ জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করেছে। দাউদপুর গ্রামের মো. কবির মিয়ার সাথে দুদু মিয়ার আর্থিক লেনদেন নিয়ে শত্রুতার জের এবং দুদু কর্তৃক কবিরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও অপমানিত হওয়ার জেরে কবির সহযোগীদের নিয়ে দুদু মিয়াকে হত্যা করে। পরে লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে বিলে ফেলে দেয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহদের আটক করা হলেও মূল হোতা আটককৃত নাজমুলের ভাই কবির মিয়া ও তার সহযোগী ভাঙ্গাডহর গ্রামের রইছ আলীর ছেলে দোলন মিয়া পলাতক রয়েছে। দিরাই থানার এসআই আজিজুর রহমান অজ্ঞাত লাশের টুকরো উদ্ধার ও জড়িত ৬ জন আটকের ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।