দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছায় নির্বাচনী প্রচারণা

বিশেষ প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-মধ্যনগর) আসনে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নয় নেতা ওই আসনের পথে পথে, ম-পে ম-পে পূজার শুভেচ্ছা দিয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শারদ শুভেচ্ছা জানাতে রবিবার থেকে এই উপজেলাগুলোর ইউনিয়নে ইউনিয়নে গেছেন।
সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী আসন এটি। যোগাযোগেও প্রত্যন্ত। দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরসহ শনি, মাটিয়ান, পাগনা, চন্দ্রসোনার তাল’এর মত বড় বড় হাওর এই আসনের সীমানায়। তিনটি শুল্ক বন্দর, অসংখ্য জলমহাল, বালু-পাথর মহাল রয়েছে এই নির্বাচনী এলাকায়। প্রয়াত বিপ্লবী বরুণ রায় ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ২০০১ সালে এই আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন।
এছাড়া প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হেকিম চৌধুরী এই আসনে চারবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জের সবকয়টি আসনের মধ্যে এই আসনেই আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহীরা শারদোৎসবেই নিজেদের প্রার্থীতার কথা জানান দিতে নেমেছেন।
এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৯ জন। এরমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট প্রায় ৮০ হাজার।
সনাতন ধর্মাবলম্বিদের পূজার শুভেচ্ছা জানাতে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করছেন প্রার্থীরা। রবিবার পর্যন্ত নয়জন জন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিয়েছেন। স্বশরীরেও ম-পে ম-পে যাচ্ছেন কেউ কেউ।
বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন রোববার থেকে ম-পে ম-পে গিয়ে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছেন। তাঁর সমর্থকরা পুরো নির্বাচনী এলাকায় শারদীয় শুভেচ্ছার পোস্টার- ফেস্টুনও সাটিয়েছে।
মোয়াজ্জেন হোসেন রতন বললেন, রবিবার তাহিরপুরে ছিলাম, আগামীকাল মধ্যনগর এবং পরদিন ধর্মপাশার ম-পে ম-পে যাব। প্রতিবছরই দুর্গোৎসবে আমি এই দায়িত্ব পালন করি, এবারও করছি।
সুনামগঞ্জ- মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার খানমও পূজা উপলক্ষে ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুরের ম-পে ম-পে যাবেন বলে তাঁর এক সমর্থক জানিয়েছেন। তিনিও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি রোববার জামালগঞ্জের ম-পে ম-পে ছিলেন। সোমবার তাহিরপুরে থাকবেন। মঙ্গলবার যাবেন ধর্মপাশায়।
করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বললেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে উৎসবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। মনোনয়ন এর আগেও চেয়েছি, এবার চাইবো।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাড. রঞ্জিত সরকার বিপূল সংখ্যক কর্মীসহ রোববার জামালগঞ্জের বেহেলী, ফেনারবাক ও সাচনায় ঘুরেছেন। সোমবার ধর্মপাশা-মধ্যনগর এবং নবমীর পূজোয় তাহিরপুরের ম-পে ম-পে ঘুরে দেখার কর্মসূচী রয়েছে তাঁর। রঞ্জিতের কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকাজুড়ে ব্যানার- ফেস্টুন ও পোস্টার সাটিয়েছে।
অ্যাড. রঞ্জিত সরকার বললেন, আমি নিয়মিত গণসংযোগে আছি। ঈদে, পরবে বন্যায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আক্তারুজ্জামান সেলিমের পক্ষেও শারদীয় শুভেচ্ছার পোস্টার সাটানো হয়েছে। ধর্মপাশার বাসিন্দা এই ছাত্রনেতা গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সেলিম আহমদের পক্ষেও নির্বাচনী এলাকাজুড়ে পোস্টার সাটানো হয়েছে। সেলিম আহমদ ম-পে ম-পে আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছেন।
এছাড়া জেলা আওয়াামী লীগের উপদেষ্টা বিনয় ভূষণ তালুকদার ভানু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটন ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের জেলা আহ্বায়ক ড. রফিকুল ইসলামও পোস্টার এবং ফেসবুক আইডিতে শারদীয় শুভেচ্ছা দিয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা হায়দার চৌধুরী লিটন বললেন, জেলা পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছি। ধর্মপাশায় যেহেতু আমার বাড়ী আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন চাইবো। চার নভেম্বর থেকে এলাকায় থাকবো।
বিনয় ভূষণ তালুকদার বললেন, দুর্গোৎসবকে ঘিরেই শুভেচ্ছা পোস্টার দিয়েছি আমার বাড়ী ধর্মপাশাসহ নির্বাচনী এলাকায়। সরকারি চাকুরি করেছি। অবসরে যাবার পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় অফিসে কাজ করছি। মনোনয়ন চাইবো, না পাইলেও দল ও নেত্রীর জন্য কাজ করবো।
সেলিম আহমদ বললেন, রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আমি। মানুষের সঙ্গেই থাকি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চাওয়ার আকাঙ্খা আছে। দুর্গা পূজোয় ব্যানার- পোস্টার- ফেস্টুন দিয়েছে আমার কর্মী সমর্থকরা। সাধ্য অনুযায়ী ম-পগুলোতেও সহায়তা দিচ্ছি।