শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

স্টাফ রিপোর্টার
শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চলমান করোনা (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ’র সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্‌ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন নবী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ আদনান, অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর পরিমল কান্তি দে; জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তসমূহ পালনের মাধ্যমে দুর্গোৎসব উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
ক) কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে জারীকৃত সর্বশেষ নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করা।
খ) সারাদেশব্যাপী জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে যথাযথ ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার আলোকে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা-২০২০ উদযাপন করা।
গ) পূজায় দায়িত্ব পালনরত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করা ও প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বর মন্দির/মন্ডপ প্রাঙ্গণে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা।
ঘ) পূজা মন্ডপে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহায়তার পাশাপাশি মন্দির কমিটি নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবে এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
ঙ) প্রতিমা তৈরী থেকে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পূজা মন্দির/মন্ডপে নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
চ) পূজা মন্দির/মন্ডপে নারী ও পুরুষের পৃথক যাতায়াত ব্যবস্থা রাখা, স্যানিটাইজার/সাবান পানি দিয়ে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা রাখা, দর্শনার্থীসহ সকলের শরীরের তাপমাত্রা/জ্বর মাপার জন্য থার্মাল যন্ত্র ব্যবহার করা এবং কোন অবস্থাতেই জনসমাগমের কারণে সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি উপেক্ষিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।
ছ) মন্দির/পূজা মন্ডপে আগত দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা, দর্শনার্থী ভক্ত ও পুরোহিতসহ সকলকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করা এবং ন্যূনতম ৩ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা।
জ) যেসব ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে দুর্গাপূজা করা হবে সেসকল ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করা যাবে কি না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ঝ) ভক্তিমূলক সংগীত ব্যতীত অন্য সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকা এবং মন্দির/পূজা মন্ডপে প্রয়োজনাতিরিক্ত দীর্ঘসময় অবস্থান না করা।
ঞ) স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে মন্দির/মন্ডপ কেন্দ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করা এবং মন্দির/মন্ডপ কেন্দ্রিক ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা/সদস্য নির্বাচন করা এবং তার মোবাইল নম্বর স্থানীয় প্রশাসনের নিকট সরবরাহ করা।
ট) পূজার মূল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান (সম্ভব হলে) জুম এ্যাপস-এর মাধ্যমে সরাসরি আয়োজন করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটি কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মন্দির/মন্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় আর্থিক সংগতি সাপেক্ষে সিসি ক্যামেরা সংযোগের ব্যবস্থা রাখা।
ঠ) কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালন করা, অন্যান্য উৎসব সীমিত পরিসরে আয়োজন করা এবং সকল প্রকার মেলা আয়োজন করা থেকে বিরত থাকা।
ঢ) বিজয়াদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনকালে শোভাযাত্রার আয়োজন না করা, অধিক সংখ্যক লোক সমাগম না করা, স্থানীয়ভাবে পূজা মন্ডপের পার্শ্বে উপযুক্ত স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা এবং বিসর্জন স্থলে পর্যাপ্ত আলোর (জেনারেটর/হ্যাজাকলাইটসহ) ব্যবস্থা ও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখা।