দুর্ভোগ পথে পথে

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
তোয়াহিদ মিয়া। বাড়ি সুনামগঞ্জের গৌরারং ইউনিয়নের লালপুরগ্রামে। সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোরে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। সাথে দু’জন মধ্য বয়সী মহিলা। তিনটা গাড়ি বদল করে সকাল ১০টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে পৌঁছান তারা। সিলেট থেকে লামাকাজি, তারপর জাউয়া বাজার, পরে পাগলা বাজার। যে গাড়িতে জাউয়া বাজার থেকে এসেছেন সেটি আর সামনে যাবে না। তাই পাগলা বাজার থেকে ধরতে হবে নতুন গাড়ি। তিন দফা গাড়ি পরিবর্তন করে পাগলা পর্যন্ত পৌঁছতে তাকে গুনতে হয়েছে পাঁচ শতাধিক টাকা। অবরোধ না থাকলে যেখানে তার সর্বোচ্চ খরচ হতো দুই থেকে তিন শত টাকা। চোখে মুখে ক্লান্তি, বিরক্তি আর ক্ষোভের ছাপ স্পষ্ট। কিছু বলতেও পারছেন না, সইতেও পারছেন না।
বয়সে তরুণ অনিক দেবনাথ। ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ থেকে তিনগাড়ি পরিবর্তন করে পৌঁছেছেন দিরাই রাস্তার মুখ মদনপুর পয়েন্টে। তার গন্তব্য দিরাই অভিমুখে সাদিরপুর পয়েন্টে। তিনিও ভাড়া গুনেছেন গ্রায় তিনগুণ বেশি। সময়ও বেশি লেগেছে। ভোগান্তিতো আর আছেই। সেই সাথে আছে পরিবহন শ্রমিকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ আর গাড়িগুলোকে পুলিশি হয়রানির ভয়। তবু যেতে হবে। বাড়িতে জরুরি দরকার। এমনসব দুঃসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে চতুর্থ গাড়ির সন্ধান করছিলেন তিনি।
ডাবর এলাকা থেকে ১০ বছরের ছোট্ট নাতনী ফারিহার হাতে ধরে দ্রুত পূর্বদিকে হেঁটে যাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব আকবর আলী মোল্লা। তারা যাবেন জাউয়া বাজার এলাকার সাদারাই গ্রামে। সুনামগঞ্জ, দিরাই, জামালগঞ্জ অর্থাৎ পশ্চিমাঞ্চলের দিকে কদাচিৎ দুই একটা সিএনজি, রিকশা-অটোরিকশা ইত্যাদি যানবাহন চললেও পূর্বদিকে কোনো ধরণের যানবাহনই যাচ্ছে না। তাই নাতনীকে নিয়ে নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটেই রওয়ানা করেন তিনি।
শুধু তোয়াহিদ মিয়া, অনিক দেবনাথ কিংবা ষাটোর্ধ্ব আকবর আলীই নন মালিকদের ডাকা আকস্মিক, অযাচিত পরিবহন ধর্মঘটে এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে বের হওয়া সব যাত্রীরা। যাত্রীদের অনেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি এখন চলমান নেই যে, অবরোধ ডাকতে হবে। তাছাড়া যেসব দাবিতে পরিবহন মালিকরা অবরোধ ডেকেছেন সেগুলো যৌক্তিক দাবি না। প্রকৃতপক্ষে তারা অন্য ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করছেন। এগুলো কাম্য নয়।
শুক্রবার দিনব্যাপী শান্তিগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজার, পাগলা বাজার, দিরাই রাস্তার মুখ (মদনপুর পয়েন্ট), ছয়হারা, আক্তাপাড়া, নোয়াখালী, পাথারিয়া ও ডাবর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড, লেগুনা-সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রী আছেন কিন্তু গন্তব্যে যাওয়ার জন্য নেই কোনো যানবাহন। যেগুলো আছে সেগুলো বন্ধ। আর ধর্মঘট উপেক্ষা করে যেসব যানবাহন চলছে, সেসব যানবাহনের চালকরা যাত্রীদের কাছে চাইছেন মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া। শুধু শান্তিগঞ্জ উপজেলাতে নয়, এভাবে চলছে সমস্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কব্যাপী।