দোকানপাট খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

আকরাম উদ্দিন
দীর্ঘ লকডাউনের পর বুকে আশা নিয়ে দোকানপাট খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা চুপিসারে দরজা বন্ধ করে দোকানের ভেতর ঝাড়মুছ করতে শুরু করেছেন। এইভাবে ঝাড়মুছ করতে গিয়েও সম্প্রতি অনেকে জরিমানার শিকার হয়েছেন। এই লকডাউনে পোকা-মাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রবে অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত মালামালের। এমন মন্তব্য একাধিক ব্যবসায়ীর।
শহরের কাপড়ের ব্যবসায়ী ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ থাকায় নিরবে নিভৃতে অন্ধকার দোকানের ভেতরে পোকা-মাকড় ও ইঁদুরে বাসা বেঁধেছে। কেটে বিনাশ করেছে অনেক জামা-কাপড়। কসমেটিক্সের দোকান, ব্যাগের দোকান, ছাতার দোকান, কাগজের দোকান, বইয়ের দোকানসহ নানা রকম মালামালের দোকানের বিনাশ করেছে পোকা-মাকড় ও ইঁদুরে। নোংরা হয়েছে দোকানের পরিবেশ। এই কারণে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দোকান মালিকেরা আইনের লোকদের জরিমানার ভয়ে চুপিসারে ঝাড়মুছ করছেন দরজা বন্ধ করে দোকানের ভেতরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, লকডাউন চলাকালীন সময়ে দোকানের দরজা খুলে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি দেখার সময়ও জরিমানার শিকার হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। ব্যবসা না করেও জরিমানা গুণতে হয়েছে। দোকান বন্ধ থাকার কারণে আরও সুযোগ পেয়েছে পোকা-মাকড় ও ইঁদুরে বাসা বাঁধতে। এই বৃষ্টি বাদলের দিনে জলীয়বাষ্প ও দোকানের ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়ে অনেক মালামাল নষ্ট হয়েছে। মঙ্গলবার লকডাউন শেষ হলে বুধবার সকাল থেকে দোকানে ব্যবসা শুরু করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে।
শহরের কাপড়ের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার দোকানের কয়েকটি শাড়ি কাপড়, প্যান্ট পিস ইঁদুরে কেটে ফেলেছে। এই কাপড়গুলো আলাদা না করলে ক্রেতারা কিনে নিয়ে এগুলো ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। বিশ্বাস নষ্ট হবে। এই জন্য নষ্ট জামা-কাপড় আলাদা করতে হচ্ছে। ইঁদুরে কেটে ফেলা বেশি দামের কাপড়গুলো কম দামে বিক্রি করতে হবে।
ব্যবসায়ী জ্যোতিষ বর্মন বলেন, হোটেল-রেস্তোরা বন্ধ থাকায় ইঁদুরেরা খাবার পায় নি। এই জন্য দোকানের বেশি মালামাল কেটে নষ্ট করেছে। মল-মুত্র ত্যাগ করে দোকানের পরিবেশ নষ্ট করেছে। আমাদের জানা আছে, দোকান বন্ধ থাকলেই অন্ধকারে নিরবে নিভৃতে ইঁদুর সুযোগ পায় পরিবেশ নোংরা করার। এখন দোকানের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অনেক পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, করোনাকালীন সময়ের প্রায় দুই বছর ধরে ব্যবসা হচ্ছে না। শুধু লকডাউনের উপর চলছে। এক সপ্তাহ দোকান খোলা রাখলে আরও দুই সপ্তাহ থাকে বন্ধ। এতে মালামালের নানাভাবে ক্ষতি হয়। তৈরি হয় নোংরা পরিবেশ। লকডাউনে দোকান খুলেই জরিমানা গুণতে হয়। পরিবারের ও সন্তানদের খরচ যোগান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঋণের বুঝা বাড়ছে।
ফুটপাতের দোকানী ব্যবসায়ী আব্দুল হাই বলেন, করোনাকালীন সময়ে ব্যবসা বন্ধ, তাই পেটে খাবার নেই, ঋণের বুঝা নিয়ে পথে বসেছি।