দোকান ভাড়া মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা

পুলক রাজ
করোনা মহামারীতে লোকসান গুণতে গুণতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে বই বিক্রেতাদের। করোনার প্রভাবে বই বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। দোকান খুললেও বর্তমান সময়ে যে পরিমাণে বই বিক্রি হচ্ছে তা দিয়ে দোকান ভাড়া মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারাও বিষয়টির সুবিধা নিয়ে বইয়ের দাম কম বলছে এবং দৈনিক খরচ মেটাতে কেনা দামে বিক্রি করছেন পুস্তক ব্যবসায়ীরা। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে বই কেনায় ভাটা পড়েছে। বিশেষত স্কুল-কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বই কিনতে বের হচ্ছে না।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের জন্য প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীরা লোনের টাকা দিতে পাড়ছেন না। সংসার চালাতেও কষ্ট হচ্ছে। পৌর বিপণি, ট্রাফিক পয়েন্ট, হোসেন বখত্ব চত্বর, সব কয়টা লাইব্রেরীতে বইয়ের ব্যবসা মন্দা চলছে।

সুনামগঞ্জ শহরের পৌর বিপণির আইডিয়াল লাইব্রেরীর ম্যানেজার স্বপন দাশ বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। করোনা ভাইরাসের জন্য দীর্ঘ দেড় বছর যাবৎ স্কুল কলেজ বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আগের মতো লাইব্রেরীতে বইয়ের ব্যবসা নেই। দেড় বছরে ২০-২২ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে মালিকের। স্কুল কলেজ খুলে না দিলে লাইব্রেরী ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। পুস্তক ব্যবসায়ী এবং লাইব্রেরীতে যারা চাকুরি করছি, তাদের কি হবে সেটা ভাবা উচিত সরকারের।

পাঞ্জেরী লাইব্রেরী মালিক মো. রিপন শেখ বলেন, করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে স্কুল কলেজ বন্ধদেয়া হয়েছে। কিন্তু একটু ঘুরে দেখলে দেখা যায় মোটামুটি সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই খোলা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরকম চলতে থাকলে নিজের সংসার কি ভাবে চালাবো, আর যারা আমার লাইব্রেরীতে চাকুরী করছে তাদের কিভাবে বেতন দিবো।

আল-বারাকা স্টেশনারীর মালিক মো. আব্দুল বাছির বলেন, লাইব্রেরী চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। ছাত্র-ছাত্রীরা বই কিনতে লাইব্রেরীতে আসে না। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় মন নেই শিক্ষার্থীদের। এখন মোবাইলে অনেক ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে বইয়ের পিডিএফ পাওয়া যায়। গল্প-উপন্যাসহ সৃজনশীল অনেক বই সেখানে পড়া যায়। এতেও আমাদের বিক্রি কম হচ্ছে।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের আগে ব্যবসা কিছুটা ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিলো। একাডেমিক বই থেকে শুরু করে সব ধরনের বই বিক্রি হয়েছে। এখন বই বিক্রি নেই বললেই চলে। আমরা যারা লাইব্রেরী ব্যবসা করছি দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ঋণ করে দিতে হচ্ছে। লাইব্রেরী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই ব্যাংক নিয়েছে। এরা আরও বেশি বেকায়দায় পড়েছে। বিক্রি না হলে নিজের সংসার চালাবে কি করে। আর ঋণ পরিশোধ করবে কিভাবে। সরকার থেকেও কোন সহযোগীতা পাচ্ছি না আমরা।