দোয়ারায় ‘অরোরা’র প্রতারণা/ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার আকুতি ক্ষতিগ্রস্তদের

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
‘মাস্টার আল-আমিনের পিতা মাওলানা আবদুল মান্নান জিহাদী মসজিদে গিয়ে ফতোয়া দিয়েছেন হোয়াটসআপ ভিত্তিক গ্রুপ ‘অরোরা’ ডেফি ক্লাবে বিনিয়োগ করা জায়েজ আছে। তাদের কথায় সরল বিশ্বাসে আমরা টাকা বিনিয়োগ করি। আমাদের টাকা ফেরত পাওয়ার পূর্বে কোনোভাবেই যেন আল-আমিন কে জামিনে মুক্তি দেওয়া না হয়, সে জন্য আমরা মাননীয় আদালতের কাছে আকুতি জানাই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়ে উপজেলার বোগলাবাজারে সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষতিগ্রস্তরা এমন আকুতি জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন হুমায়ুন আল মোমিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনও কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মতো কয়েকশ’ মানুষ অনলাইন গ্রুপ ‘আরোরা’ ডেফি ক্লাবে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জানা যায়, প্রতি শুক্রবার নামাজের সময় মাওলানা আবদুল মান্নান জিহাদী হোয়াটসআপ ভিত্তিক গ্রুপ ‘অরোরা’ ডেফি ক্লাবে বিনিয়োগ করার জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হত। তার কথায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে গত দুই মাসে কয়েকশ’ মানুষ এখানে বিনিয়োগ করেন। সম্প্রতি সংগঠনটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। গত পহেলা অক্টোবর বীর মক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের ছেলে ইকবাল হোসেন এমন প্রতারণার ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় সাত জনকে আসামী করে মামলা (নং ১/১৪০, তাং ০১.১০.২২) দায়ের করেন। ঐ দিনই মাওলানা আবদুল মান্নান জিহাদীর ছেলে মাস্টার আল-আমিনকে আটক করে পুলিশ।
এই মামলায় অন্য আসামীরা হলেন, বাংলাবাজার ইউনিয়নের রামসাইর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, পাইকপাড়া গ্রামের আলতু মিয়ার পুত্র আবুল হাসনাত, ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের আব্দুল হাই’র পুত্র আনোয়ার হোসেন মাস্টার, বোগলা ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নান জিহাদির পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাজী বাদশা মিয়ার পুত্র আব্দুল মান্নান জিহাদি, বোগলা ইউনিয়নের কইয়াজুড়ি গ্রামের আব্দুশ সহিদের স্ত্রী মোছা. মজিদা খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে হুমায়ুন আল মোমিন বলেন, ‘অরোরা’ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে জেলহাজতে আছেন স্কুল শিক্ষক আব্দুর রহমান আল আমিন। তিনি এলাকার যুব-তরুণদের উদ্ধুদ্ধ করে প্রায় ৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করিয়েছেন। এলাকার শত-শত মানুষ তার কথায় বিশ্বাস করে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। আমরা আমাদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত চাই।
উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের কাঠলবাড়ি’র ক্ষতিগ্রস্ত তুষার আহমদ বলেন, আলা আমিন মাস্টার আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘অরোরা’ ডেফি ক্লাবে থাকার নিশ্চয়তা দিলে আমি ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। আমার মত শত-শত যুবক তরুণরা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছে। আমাদের টাকা ফেরত না পেলে প্রয়োজনে আমরা আন্দোলনের ডাক দেবো।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহাম্মদ আলী আপন। দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বললেন, এ ঘটনায় গত পহেলা অক্টোবর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার মূল আসামীকে ওইদিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য পলাতক আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।