- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারায় ইউপি কার্যালয়ের আসবাব সরানো এমন লজ্জাজনক, কাণ্ডের বিচার হোক

নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন তিনি। ছেড়ে দিতে হবে অফিস। তাই অফিসের কিছু আসবাবপত্র নিয়ে গেলেন নিজে। ভাবলেন না, এই আসবাবের মালিক তিনি নন। এর মালিক সরকার। সরকারের মালকে নিজের মনে করা এই ‘মহৎ’ ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায়। তিনি দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান ছিলেন। সদ্যসমাপ্ত ইউপি নির্বাচনেও তিনি চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ছিলেন। পরাজিত হয়েছেন। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর দেখতে পান বিদায়ী চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের একটি চেয়ার, একটি টেবিল, একটি ফাইল কেবিনেট, সৌর বিদ্যুতের প্যানেল, বৈদ্যুতিক বাল্বসহ আরও বেশ কিছু সরঞ্জাম নিয়ে গেছেন। নতুন চেয়ারম্যান এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দোয়ারাবাজারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিদায়ী চেয়ারম্যান অবশ্য বলেছেন, তিনি অফিস থেকে যা নিয়েছেন তার পরিবর্তে অন্য জিনিস দিয়ে এসেছেন। তিনি এও বলেছেন- ঈর্ষাবশত একটি মহল তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে। তাঁর বক্তব্য থেকে আমরা বুঝতে অক্ষম, কেন তিনি অফিসের জিনিস নিয়ে তার বদলে অন্য জিনিস রেখে এসেছেন। তার মানে কি এই যে- তিনি ভাল জিনিস সরিয়ে খারাপ জিনিস রেখে এসেছেন নাম-কা-ওয়াস্তে? আর কেনই বা তিনি অফিসের জিনিস বদলাতে যাবেন। ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁর অফিসের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হেফাজতকারী ছিলেন তিনি। দায়িত্ব হস্তান্তরকালে তাঁর হেফাজতে রক্ষিত সকল সম্পদাদি যথাযথভাবে স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকে বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন। এটাই নিয়ম। তিনি তা করেননি। তিনি সামান্যকিছু আসবাবপত্রের খায়েস ছাড়তে পারলেন না বিদায়বেলা, তাহলে দায়িত্বের পাঁচ বছরে কী করেছেন, এই প্রশ্ন কেউ তুললে দোষ দেয়া যাবে না।
জনপ্রতিনিধিত্বের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমরা প্রায়ই আলোচনা করি। আমরা মনে করি জনগণের ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ অনুসরণযোগ্য চরিত্রের অধিকারী হবেন। তাঁরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন যা সমাজের অন্যদের কাছে আদর্শ হিসাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু ভোগবাদী ও দুর্নীতিপ্রবণ সময়ের কারণে এরূপ আদর্শবান ব্যক্তি এখন প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছেন। জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী- কোথাও দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ব্যক্তির সন্ধান মিলে না। সুতরাং দোয়ারাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান একেবারে ধোয়া তুলসিপাতা চরিত্রধারী হয়ে যাবেন এমনটি হয়ত কারও কাম্য ছিল না। কিন্তু অসততার একটি মাত্রা বা স্তর অন্তত বজায় রাখবেন এমন প্রত্যাশা করা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু তিনি যা করেছেন তা এককথায় অত্যন্ত নিম্নরূচির একটি কাজ। তাঁকে এই সমাজেই থাকতে হবে। নির্বাচিত হননি বলে সমাজসেবকের তকমা তার মুছে যায়নি। তিনি আবারও নির্বাচিত হতে পারেন। সংবাদ অনুসারে তিনি আসন্ন দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনের একজন প্রার্থী। তো ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব হস্তান্তরকালে তিনি আসবাবপত্র নিয়ে যা করলেন তাতে জনগণের কাছে তাঁর কোন্ ভাবমূর্তি ফুটে উঠল তা কি তিনি ভেবেছেন?
যাহোক, ওই বিদায়ী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তার উপযুক্ত তদন্ত হোক। সত্যিই যদি তিনি অফিসের আসবাবপত্র নিজের দখলে নিয়ে থাকেন তাহলে সেজন্য উপযুক্ত বিচার করা হোক। আমরা জানি, এখন বড় পরিমাণের দুর্নীতি করেও পার পাওয়া যায়। বরং দুর্নীতি করাকে এখন অনেক বড় যোগ্যতা হিসাবে বিবেচনা করে দুর্নীতিবাজদের বিশেষ সমাদর করা হয়ে থাকে। তারপরেও সাধারণ মানুষের মনের ভিতর এক ধরণের প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই আমরা এই লজ্জাজনক কাণ্ডের উপযুক্ত বিচার কামনা করি।

  • [১]