দোয়ারায় মা মেয়েকে মারধর

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
পৈতৃক সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে মারধর করেছে প্রতিপক্ষরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের বোগলাবাজার গ্রামে। এদিকে এই ঘটনায় শনিবার দোয়ারাবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিত রেখা রানী বর্মন।
জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের বোগলাবাজার গ্রামের জাফর খানের সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে প্রয়াত দীনবন্ধু বর্মনের স্ত্রী রেখা রানী বর্মনের। এরই জেরে গত শুক্রবার সকালে জাফর খান বিরোধীয় জমিতে জোরপূর্বক গাছ কাটতে গেলে বাধা দেন রেখা রানী বর্মন এবং তার মেয়ে বোগলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রিপা রানী বর্মন। এ ঘটনায় জাফর খান তাদের উপর চড়াও হন এবং মা ও মেয়েকে মারধর করেন। এ ঘটনায় শনিবার দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রেখা রানী বর্মন।
এদিকে এই ঘটনায় শনিবার দুপুরে দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে করেছেন শিক্ষিকা রিপা রানী বর্মন। এসময় তিনি বলেন, জাফর খান বিরোধীয় সম্পত্তিতে জোরপূর্বক গাছ কাটতে গেলে আমার তাতে বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাদের বেধড়ক মারধর করেন। আমাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে আমাদের উদ্ধার করেন। টানাহেঁচড়ার সময় আমার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি জাফর খান নিয়ে যান। জাফর খান মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে আমাদের নিঃস্ব করার চেষ্টা করছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। দোষি ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি আমরা।
অভিযুক্ত জাফর খান বলেন, এই জায়গাটি আমি আমার ভাইয়ের কাছ থেকে কিনেছি। আমার জায়গার গাছ কাটতে যাওয়ার সময় ওরাই আমাকে বাধা দিয়েছে। আমি কাউকে মারধর করিনি। শুধু রিপার মাকে ধাক্কা দিয়েছি। এরপর দুই পরিবারের মহিলাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বলেন, শিক্ষিকা এবং তার মাকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।