দ. সুনামগঞ্জে ঈদবাজারে ক্রেতাদের ঢল

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় করোনা উপেক্ষা করে এ বছর জমে উঠেছে ঈদের বাজার। গোলায় আনন্দের ধান তুলে ঈদের কেনাকাটা করতে বাজারে আসতে শুরু করেছেন এ উপজেলার কৃষক-কৃষাণী ও সাধারণ মানুষ। চলমান লকডাউনে মানুষের আয়রোজগার কম হলেও নিজেদের সাধ্য মতো করছেন ঈদের কেনাকাটা। এতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কাপড়ের দোকান, মুদির দোকানসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে বেড়েছে কয়েকগুণ বেচা-কেনা। উপজেলার প্রায় সবগুলো বাজারেই আছে বাড়তি ক্রেতাদের ভিড়। তাদের মাঝে নারী ও শিশু ক্রেতাদের উপস্থিতিও লক্ষণীয়। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতারাই ব্যবহার করছেন না মাস্ক, মানছেন না শারীরিক দূরত্ব। এতে করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য সচেতন মহল।
সোমবার উপজেলার পাথারিয়া বাজার, নোয়াখালি বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার ও পাগলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারগুলোতে লকডাউনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ক্রেতাদের সংখ্যা বেশি। কাপড়ের দোকান, মুদির দোকানসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দোকানে সাধারণ ক্রেতাদের উঁপচে পড়া ভিড়। নারী ও শিশুদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। প্রায় কেউই ব্যবহার করছেন না মাস্ক। মানছেন না শারিরীক দূরত্ব। আর যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন তাদের সংখ্যা একেবারেই নগন্য। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বাজারে আসা সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের। সকলকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোয়িয়েশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে। একটু চিন্তা করে দেখুন তো, আমাদের ডাক্তার-নার্সরা দিনের পর দিন মাস্ক, পিপিই পরে কাটিয়ে দিচ্ছেন জনগণের সেবায়। আর জনগণ যদি নিজেদের রক্ষায় মাস্ক না পড়েন তাহলে অবস্থা বেগতিক হবে। স্বাস্থ্য সচেতন না হলে আমরা ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হবো।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, এই মুহুর্তে জীবিকাকে কম্প্রমাইজ করে জীবনের দিকে নজর দিতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে কোনটা আগে। জীবন নাকি জীবিকা। ঈদের শপিং থেকে একটু দূরে থাকতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মানতে হবে শারীরিক দূরত্ব। না হলে আমরা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মুখোমুখি হবো। ভয়াবহ অবস্থা হবে আমাদের যা কল্পনাও করা যায় না। এ অবস্থা সামাল দেওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর হবে। পাশের দেশের অবস্থা যেনো আমাদের না হয়। দয়া করে স্বাস্থ্যবিধি মানুন।