দ. সুনামগঞ্জে কর্মহীদের পাশে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন চলছে। এ ব্যাপারে সরকার এতোদিন কঠোর অবস্থানে থাকলেও গতমাসের ২৫ তারিখ থেকে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। ঘনিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরও। তাই খুলে দেওয়া হয়েছে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট। কিছু দিনের জন্য গত পরশু থেকে শুরু হয়েছে সীমিত পরিসরে আন্তঃজেলা ভিত্তিক গণপরিবহণ চলাচল। এ বছর ৫ এপ্রিল থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রথমবারের মতো এক সপ্তাহের জন্য দেশকে লকডাউন করেছিলো সরকার। তখন থেকেই কর্মহীন হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। দোকানপাট বন্ধ, যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ নানান কারণে স্থবিরতা চলে সাধারণ মানুষের জীবনে। এতে সারা দেশের ন্যায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপাজেলায়ও আয়রোজগারহীন হয়ে পড়েন গণপরিবহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত কয়েক হাজার মানুষ। একমাসেরও বেশি সময় ধরে এ লকডাউন চললেও কর্মহীন হয়ে পড়া এসব মানুষের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে এখনো দাঁড়াতে দেখা যায়নি সামনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এমন কোনো ব্যক্তিকে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই মার্চ মাসে নির্বাচন হতে পারে এমন অনুমান থেকে উপজেলার ৮ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাওয়া আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রায় শতাধিক ব্যক্তি নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে কোমর বেধে নেমেছিলেন। গিয়েছিলেন সাধারণ ভোটারদের দরজায় দোয়া-আশির্বাদ নিতে। তখন কোনো সংকটময় মূহুর্ত না চললেও খুশিমনে অনেকেই বিতরণ করেছেন বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ সহায়তা। কিন্তু থেকে লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোজগারহীন হয়ে থাকা কর্মহীন মানুষের পাশে আগের মতো দাঁড়াচ্ছেন না ভোট প্রত্যাশী ব্যক্তিরা।
জয়কলস, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের এনামুল হক, ফরহাদ আলম, তজিবুল ইসলাম ও সুশান্ত সূত্রধর বলেন, নির্বাচনের এসেছিলো সকল প্রার্থীরাই আমাদের খোঁজ নিতে এসেছিলেন। এখন আর কেউ খোঁজখবর নেন না। কোনো সহযোগিতাও তারা করেন নি এখনো পর্যন্ত। অনেক কষ্টে দিনানিপাত করছি। লকডাউন, তাই কাজ নেই। জিনিষপত্রেরও দাম বেশি।
পশ্চিম বীরগাঁও, পাথারিয়া, শিমুলবাঁক ও দরগাপাশা ইউনিয়নের মনর আলী, জমির আলী, মতিউর রহমান ও শহিদ মিয়া বলেন, নির্বাচন করতে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তারা নিজেদেরকে পরিচিত করতে আর তাদের আখের গোচাতে প্রচারণায় নেমেছিলো। তাদের কারোরই উদ্দেশ্য নয় জনগণের সেবা করা। যদি এমন সৎ উদ্দেশ্য তাদের থাকতো তাহলে এই আপদকালীন সময়েও তারা মানুষের পাশে দাঁড়াতো। আমরা কেউই কোনো প্রার্থীর সহায়তা এখনো পাইনি। তারা আমাদের খোঁজ খবরও নেননি। এখানেই বুঝা যায় তারা কে কতটুকু জনবান্ধব নেতা।
সাধারণ মানুষের এমন সব অভিযোগের সাথে অবশ্য দ্বিমত পোষণ করেছেন এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য কিছু প্রার্থীরা।