ধর্মপাশায় অভিযোগ করে বিপাকে এক অভিযোগকারী

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক সহায়তার তালিকায় স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ করে বিপাকে পড়েছেন মো. রবিউল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযোগকারীকে নিয়ে যত্রতত্র উপহাস ও বিরুপ মন্তব্য করে যাচ্ছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলাম ও তার লোকজন। ফলে বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অভিযোগকারী। সাজেদুল ইসলাম সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। অভিযোগকারী রবিউল চৌধুরী একই ওয়ার্ডের মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা।
গত মে মাসের প্রথম দিকে দেশে চলমান করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দিনমজুর, চায়ের দোকানদার, রিকশা/ভ্যান চালক, হোটেল রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করার কাজ শুরু হয়। ওই সময় সেলবরষ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলাম নিজের ছেলে, বোন, ভাতিজা, ভাগ্নি, ভাগ্নে, কয়েকজন আত্মীয়, এক মৃত ব্যক্তিসহ চাকুরীজীবির নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেন। তালিকায় স্থান পাওয়া প্রত্যেকেই ২০ কেজি করে চাল ও স্ব-স্ব মোবাইল নম্বরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাওয়ার কথা থাকায় সাজেদুল ইসলাম তার তালিকায় একাধিক উপকারভোগীর নামের পাশে একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। বিষয়টি নিয়ে ১২ মে মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। তদন্তে সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এ নিয়ে সাজেদুল ইসলামকে কারণ দর্শানো হলে তিনি সন্তুষজনক জবাব দিতে পারেননি। এদিকে এখন পর্যন্ত সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়নি। তাই সাজেদুল ইসলাম ও তার আত্মীয়স্বজন অভিযোগকারী মো. রবিউল চৌধুরীকে নিয়ে উপহাস ও বিরুপ মন্তব্য করে যাচ্ছেন।
অভিযোগকারী মো. রবিউল চৌধুরী বলেন, ‘ইউপি সদস্য ও তার আত্মীস্বজন আমাকে নিয়ে উপহাস ও বিরুপ মন্তব্য করে। বিভিন্ন সময় হুমকিও দিয়েছে। যা আমাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তাই তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাই।’
এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান জানান, ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনিও তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।