- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

ধর্মপাশায় এক ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সরকারি অর্থ, ভিজিডি ও শিশু খাদ্য আত্মসাত, ভিজিডি কার্ডধারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং এক ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার অপরাধে ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন চামরদানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নাকে তার পদ থেকে সাময়িক বরাখাস্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াসিল আহম্মেদের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ইফতেফখার আহমেদ চৌধুরী ওই চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও ওই ইউপি সদস্যের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট দুর্যোগে বিশেষ মানবিক সহায়তা বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ ছাড়াই ও কোনো প্রকার মাস্টাররোল প্রস্তুত না করে জুন মাসের ১৬ তারিখে বিতরণের জন্য চাল ও আলু আত্মসাত করেন। ভিজিডি কার্যক্রম পরিচালনায় একক সিদ্ধান্তের আশ্রয় নেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ভিজিডির চাল বিতরণে তালিকা ও মাস্টাররোলে ট্যাগ অফিসার ও সনাক্তাকারী হিসেবে ইউপি সদস্যদের কোনো প্রকার স্বাক্ষর নেই। এ সময় চেয়ারম্যান ৮ চস্তা চাল আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও তিনি ভিজিডি কার্ডধারীদের কাছ থেকে শ্রমিকের খরচ বাবদ ৪০ টাকা করে আদায় করেন। ট্যাক্স ও হোল্ডিং বাবদ এ পর্যন্ত কতটাকা আদায় করেছেন তারও কোনো সুষ্পষ্ট সঠিক তথ্য উপাত্ত নেই চেয়ারম্যানের কাছে। তবে ট্যাক্স, রেট ও বিবিধ প্রাপ্তি রশিদ অনুযায়ী দেখ যায় তিনি ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫০ টাকা আদায় করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ৪৮ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা করে অবশিষ্ট ৩ লাখা ৪০ হাজার ৮৫০ টাকা আত্মসাত করেছেন। ইউপি সদস্য ওয়াসিল আহম্মেদ কোর্টের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হাজতে থাকার সময় তার (ওয়াসিল) স্বাক্ষর জাল করে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শিশু খাদ্য বিতরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও সচিব ছাড়াই বিতরণ না করে আত্মসাত করেছেন। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ওয়াসিল আহম্মেদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করলে অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ করেন।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান সমকালকে বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চামরদানি ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে আমাকে অবগত করা হয়েছে।’

  • [১]