ধর্মপাশায় জলাবদ্ধতায় বিপাকে ১৫ পরিবার

এনামুল হক, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের হিন্দুপাড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বসতঘরসহ রান্না ঘরে পানি প্রবেশ করায় অন্তত ১৫টি পরিবার থাকা খাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
জানা যায়, গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির পানিতে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিধু শীল, রাশেন্দ্র শীল, তপন, পরিমল শীল, চন্দন শীল, রতন সরকার, সবিতা রাণী, শফিউল্লাহ, এমদাদুল হক, তন্ময় আহমেদ জয়, সুরঞ্জিত শীলের পরিবারসহ অন্তত ১৫টি পরিবারের লোকজনকে হাঁটু পানি মাড়িয়ে প্রধান সড়কে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কারও কারও বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্য বাড়িতে। পানিতে রান্না ঘরের চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্নার কাজ সাড়তে হচ্ছে প্রতিবেশীর ঘরে। টয়লেট ডুবে যাওয়ায় অনেকেই পড়েছেন চরম বিপাকে। বাড়ির আঙিনায় ও ঘরে পানি থাকায় একদিকে যেমন সাপসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে অন্যদিকে শিশুরা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী রুমা রাণী শীল বলেন, ‘আমাদের ঘরে পানি প্রবেশ করায় খুব দুর্ভোগে পড়েছি। নিরুপায় হয়ে অন্য ঘরে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।’
সবিতা রাণী বলেন, ‘উঠানে জমে থাকা পানিতে পড়ে ছোট ছেলে মেয়েদের যে কোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
পানিবন্ধি মো. শফিউল্লার ছেলে মাসুম জানায়, তাদের বসতঘরসহ রান্না ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা তন্ময় আহমেদ জয় বলেন, ‘বাড়ির আশপাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় মশার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। পানি নিষ্কাশন না হলে এ দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মী চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা হয়ে অন্তত ১৫টি পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।’
এদিকে সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম আহম্মদ বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে।’