ধর্মপাশায় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে আবারও বাধা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার কাইল্যানী হাওরের ২৪নং প্রকল্পের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে আবারও বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে এ প্রকল্পের কাজ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিবসহ কয়েকজন সদস্য সোমবার দুপুরে প্রকল্প এলাকা পরির্দশন করেছেন এবং কাজে বাধা দেওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় স্থানীয় কৃষকেরা উপস্থিত হয়ে জয়শ্রী ইউনিয়নের সানবাড়ি গ্রামের পরিমল মজুমদার, কলিঙ্গরাজ চৌধুরী, তার ভাই স¤্রাট চৌধুরী ও কমরেড চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেন। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ওই প্রকল্পের সভাপতি সরোয়ার্দী তালুকদারও সংবাদ সম্মেলন করে একই অভিযোগ করেছিলেন। এদিকে উপজেলা কমিটির নির্দেশে সোমবার দুপুরে থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু আবারও শুরু হয়েছে। তবে যে কোনো সময় আবারও কাজে বাধা আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রকল্পের সভাপতি।
সানবাড়ি গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে এ প্রকল্পের এলানইমেন্ট (প্রকল্প বাস্তবায়ন রেখা) রয়েছে। গেল বছরেও একই রেখায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পরিমল মজুমদার, কলিঙ্গরাজ চৌধুরী, তার ভাই স¤্রাট চৌধুরী ও কমরেড চৌধুরী প্রকল্পের কাজে বাধা দিয়ে নদীরপাড় ঘেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। এতে প্রকল্পের লোকজন রাজি না হওয়ায় প্রকল্পের কাজে বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, নদীর পাড়ের খালি জায়গাটি বোরো মৌসুমে ধান কাটার পর ধান মাড়াই, শুকানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় এবং নদীর পাড় ঘেষে বাঁধ নির্মাণ করা হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সোমবার দুপুরে উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, সদস্য গোলাম আযহারুল ইসলাম দিদারসহ গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে নদীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ না করার জন্য স্থানীয়রা জোর দাবি জানান। এ সময় অভিযুক্তরা সেখানে অনুপস্থিত থাকায় তাদের সাথে কথা বলতে পারেননি কাবিটা কমিটির সদস্যরা।
প্রকল্পের সভাপতি সরোয়ার্দী তালুকদার বলেন, ‘কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এক্সক্যাভেটর (মাটি খনন যন্ত্র) মেশিন বসিয়ে রেখে ভাড়া দিতে হয়েছে। সরকারি কাজে যারা বাধা দিচ্ছে তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তবে অভিযুক্ত স¤্রাট চৌধুরী ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে বাধা দেননি বলে দাবি করেছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, ‘গতবার আমরা যে জায়গায় কাজ করেছি সে জায়গাতেই কাজ করতে হবে। যদি সরকারি কাজে কেউ বাধা দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’