ধর্মপাশায় বহিরাগতদের নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
এবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ধর্মপাশা উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহিরাগত একাধিক প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় দীর্ঘ বছর ধরে বহিরাগতরা ধর্মপাশার বাসিন্দা সেজে কৌশলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে চাকরি লাভ করে আসছেন। এতে করে হাওরপাড়ের উপজেলা ধর্মপাশার স্থায়ী বাসিন্দারা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বহিরাগত প্রার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এবারও উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দারা চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেন। এবার ধর্মপাশা উপজেলা থেকে ৩৪২ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এসব প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া ইউনিয়নের পানুর গ্রামের ফজলুর রহমান খান ওরফে আলাইয়ের মেয়ে জয়া আক্তার তার পরিচয় গোপন করে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বরই গ্রামের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও লেখালেখি করছেন স্থানীয় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। এছাড়াও উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মাটিয়ারবন্দ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ওমর ফারুক ও ফরিদা আক্তার নামের আরও দুজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ওমর ফারুক ও ফরিদা আক্তার টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে একাধিক বহিরাগত প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উত্তীর্ণ স্থানীয় প্রার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, জয়া আক্তার, ওমর ফারুক, ফরিদা আক্তারসহ বহিরাগত প্রার্থীরা স্থানীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব সনদপত্র সংগ্রহ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জয়া আক্তার এ প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে রফিক নামের এক ব্যক্তি জয়া আক্তারের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিবেদন না করার জন্য এ প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।
জয়শ্রী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘জয়া আক্তার আমার ওয়ার্ডের বরই গ্রামের বাসিন্দা নয়। জয়ার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়।’
জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘বহিরাগত কাউকে জন্ম নিবন্ধন, পরিচয়পত্র কিংবা নাগরিকত্ব সনদপত্র দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আমার পরিষদের সবাইকে বলে দিয়েছি। তবে কেউ যদি পরিচয় গোপন করে আমার ইউনিয়নের পরিচয়বহনকারী কোনো কাগজপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দিয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই সে ভিন্ন পন্থা অবম্বন করেছে।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ওমর ফারুক ও ফরিদা আক্তার আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা নয়। তারা নাগরিকত্ব সনদপত্র নেওয়ার জন্য আসলেও আমি নাগরিকত্ব সনদ দেইনি। বিষয়টি আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বহিরাগতদের ব্যাপারে জেনেছি। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের সজাগ থাকতে হবে। ধর্মপাশা ও জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে দুজন সচেতন নাগরিক তথ্য অধিকার আইনে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা চেয়েছেন। আগামীকালের (রোববার) মধ্যে তালিকা দেওয়া যাবে। ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তালিকা যাচাই করলে বহিরাগতদের শনাক্ত করা যাবে।’