ধর্মপাশায় সংবাদ সম্মেলন করে আ.লীগ নেতার প্রতিবাদ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলাধীন মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোবারক হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টায় মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোবারক হোসেন তালুকদার। তিনি তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত ১৭ নভেম্বর একটি জাতীয় পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে আমার নানা একজন রাজাকার, প্রভাব খাটিয়ে মধ্যনগর কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি হওয়াসহ থানা পুলিশে তদবির, টিআর-কাবিখায় ভাগ, জলমহাল দখল ও ঠিকাদারি, মধ্যনগর বাজারে সরকারি জমি দখল করে অট্টালিকা নির্মাণ, ভূমিহীন হিসেবে মধ্যনগর ভূমি অফিস ও পোস্ট অফিসের মধ্যবর্তী স্থান এবং মধ্যনগর থানার সামনে সরকারি লিজকৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে গৃহ নির্মাণ, ডিআইজি বাতেনের ভাতিজাকে মারধর, হিন্দু পরিবারের লোকজনকে নির্যাতন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা, বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা, জোরপূর্বক মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ দখল করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দপ্তরী দিয়ে শিক্ষককে মারধর, শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, রাজত্ব কায়েমের জন্য মোবারক বাহিনী গঠন, মধ্যনগর বিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের মিনতী হত্যাকান্ডে জড়িত আসামিদের সহায়তা, মধ্যনগর সোনালী ব্যাংক শাখায় একাধিক একাউন্ট, মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য অসৎ নেতাদের পেছনে অর্থ বিনিয়োগ করছি। কিন্তু সংবাদে উল্লেখিত প্রতিটি তথ্যই মিথ্যে, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। প্রকৃত সত্য হলো, বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের মধ্যনগর এলাকার সবচেয়ে প্রিয়ভাজন ব্যক্তি ছিলেন আমার পিতা আব্দুল আজিজ তালুকদার। মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের নির্বাচনী প্রচারণা আমাদের বাড়ি থেকে পরিচালিত হতো। তখনকার সময়ে আমার দাদা আরব আলী তালুকদার একজন বড় ব্যবসায়ীসহ শালিশী ব্যক্তি ছিলেন। আমার পিতা ধর্মপাশা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭২ সালে আমার পিতা বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আমার চাচা আব্দুল মালেক তালুকদার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকুরীরত অবস্থায় দেশ বিদেশের রাষ্ট্রীয় কাজে নিযুক্ত ছিলেন। আমার চাচা আব্দুল হামিদ তালুকদার মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। আমার চাচা বারবার নির্বাচিত মধ্যনগরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল লতিফ তালুকদার মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমার চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম বাবুল মধ্যনগর থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আমার আরেক চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম সবুজ মধ্যনগর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। আমি ১৯৮৭ সারে মধ্যনগর স্কুল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এবং তখনকার সময়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হই। আমি ১৯৯৮ সালে মধ্যনগর থানা যুবলীগের সদস্য ও ২০০২ সালে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হই। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি ডা. স্মৃতি ভূষণ, কোষাধ্যক্ষ রূপচা খান, সদস্য লিটন চন্দ্র বণিক, শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, আ.লীগ নেতা রুহুল আমিন, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।